ফরিদপুরে নাঈম শেখ নামে এক কিশোরকে হত্যা মামলায় আশীক শেখ (১৮) নামে একজনকে তিনটি ধারায় ১৬ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডে সশ্রম ও বিনাশ্রম উভয় ধরনের শাস্তির উল্লেখ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুরের জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ আদেশ দেন।
রায়ে নাঈম শেখকে হতার দায়ে ৩০২/৩৪ ধারায় আশীককে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। এছাড়া, ইজিবাইক ছিনতাই (দস্যুতা) এবং লাশ গোপনের চেষ্টা করায় যথাক্রমে ৩৯৪ ও ২০১ ধারায় আরও তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে।
একটি ধারার সাজা শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে তাকে বাকি দুটি ধারার সাজা ভোগ করতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত সূত্র।
এদিকে, শিশু আইনে বিচার হলেও বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আশীককে সাজাভোগের জন্য কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সে যতদিন বন্দি কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক ছিল সেই সময়কাল তার দণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।
ঘটনা
২০২২ সালের ২১ এপ্রিল সকাল ৯টা। প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বের হয় ফরিদপুর সদরের চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের গোয়ালের টিলা গ্রামের শামসু শেখের ছেলে নাঈম শেখ (১৫)। সেই রাতে নাঈম আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন (২২ এপ্রিল) সকাল ৬টার দিকে ইউনিয়নের লোকমানডাঙ্গী গ্রামের একটি বাড়িতে মুরগির ঘরের নিচে মাটিচাপা অবস্থায় পলিথিনে পেচানো অবস্থায় নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই রাশেদ শেখ বাদী হয়ে আছমত শেখ (১৯), তার ভাই আশীক (১৬) ও সাগর মোল্লাকে (২৪) আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া
মামলাটি তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফরহাদ হোসেন। তিনি তিনজনকে অভিযুক্ত করে ২০২২ সালের ১৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
আসামিদের মধ্যে আশীক অপ্রাপ্তবয়স্ক (ঘটনার সময়) হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে এবং বাকি দুই আসামির বিচার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে করা হয়। মামলার বাকি দুই আসামি আছমত শেখ ও সাগর মোল্লার বিষয়ে রায় দেবেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
আদালতের পিপি স্বপন পাল বলেন, ঘটনার সময় ওই কিশোরের বয়স ছিল ১৬। তবে রায় ঘোষণার দিন তার বয়স ১৮ অর্থাৎ সাবালক হওয়ায় আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেন।



