Saturday, June 15, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রতি বাজেটেই কেন বাড়ানো হয় সিগারেটের দাম?

দাম বাড়লে কি সিগারেট খাওয়া কমে?

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৪, ০৬:৫৪ পিএম

জাতীয় সংসদে আগামী ৫ জুন বসছে বাজেট অধিবেশন। এটি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট অধিবেশন। এদিন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এটি তারও প্রথম বাজেট।

এদিকে, বাজেট যত এগিয়ে আসছে ততবেশি আলোচনা চলছে কোন জিনিসের দাম বাড়তে আর কোন জিনিসের দাম কমতে পারে তা নিয়ে।

প্রতিবছর বাজেট ঘোষণার পর বেশ কিছু পণ্যের দামের পরিবর্তন ঘটে। কিছু পণ্যে শুল্ক ও কর প্রত্যাহার করে সরকার, ফলে সাধারণত সেসব পণ্যের দাম কমে। আবার কিছু পণ্যে সরকার নতুন করে কর আরোপ করে, ফলে সেসব পণ্যের দাম বেড়ে যায়।

প্রতিবছরই বাজেট ঘোষণার পর সবচেয়ে আলোচনা হয় সিগারেটের দাম বৃদ্ধি ঘিরে। এমনকি বাজেট ঘোষণার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই বেড়ে যায় সিগারেটের দাম। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।

তবে সাধারণ মানুষের অনেকের মনেই প্রশ্ন, প্রতি বাজেটেই সিগারেটের দাম বেড়ে যায় কেন? দাম বাড়লে কি সিগারেট খাওয়া কমে?

আপাতদৃষ্টিতে দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ, দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন এমন মানুষ খুব কমই দেখা যায়।

অন্যদিকে, বাজেটে সিগারেটের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ শুল্ক আরোপ। প্রতিবছরই বাজেটে সিগারেটের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমানো এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশকিছু প্রস্তাব রাখেন। এই লক্ষ্যে গতবছর সিগারেটকে চারটি ভাগে ভাগ করে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্যাকেটের সর্বনিম্ন মূল্য ৪৫ টাকা ও সম্পূরক শূল্ক ৫৮% ধার্য করা হয়। এছাড়া মধ্যম স্তর, উচ্চ স্তর ও অতি-উচ্চ স্তরের সিগারেটের ওপর ৬৫% শুল্ক নির্ধারণ করা হয়।

অর্থাৎ সিগারেটের দাম বাড়ানোর পেছনে অন্যতম কারণ সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি। সেইসঙ্গে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমানোর জন্যও সিগারেট দাম বাড়ায় সরকার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয়ের অন্যতম খাত বিড়ি, সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য। সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ১০% আসে এ খাত থেকে। এদিকে, দেশের মোট ধূমপায়ীর মধ্যে অধিকাংশই নিম্নস্তরের সিগারেটের ভোক্তা। দাম বাড়লে তাদের সিগারেটের প্রতি আসক্তি কমতে পারে, সে উদ্দেশ্যে প্রতিবছর বাজেটে বাড়ানো হয় তামাকজাত পণ্যের দাম।

তবে অধিকাংশ ধূমপায়ীরা বলছেন, দাম বাড়লে তারা সিগারেট ছাড়েন না। দাম বাড়তে থাকলে অর্থ সাশ্রয়ে একজন ধূমপায়ী ব্র্যান্ডের সিগারেট ছেড়ে নিম্নমানের সিগারেটের ঝোঁকেন।

একই মত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদেরও। তারা বলছেন, সিগারেট মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর ব্যবহার কমাতে হবে। তবে বর্তমানে যে হারে কর আরোপ হয়, এতে করে ব্র্যান্ডের সিগারেটগুলো ছেড়ে ধূমপায়ীরা কমদামি সিগারেটের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তাই কমদামি সিগারেটেরও দাম বাড়াতে হবে। পাশাপাশি তামাকবিরোধী প্রচারণা ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান তাদের।

শুধুমাত্র রাজস্ব আদায়ের জন্য সিগারেটের দাম বাড়ালে জনস্বাস্থ্যের কোনো উন্নতি হবে না বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।

তাই প্রস্তাবিত বাজেটে, সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের পাশাপাশি ই-সিগারেট ও ভেপিং পণ্য আমদানির সুযোগ বন্ধের দাবি তামাকবিরোধী আন্দোলন কর্মীদের।

প্রসঙ্গত, প্রতিবছর সিগারেটসহ অন্যান্য তামাক পণ্য ব্যবহারজনিত কারণে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার মৃত্যু ঘটছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

About

Popular Links