Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নৌপথে ঢাকা ছাড়বে লাখো মানুষ

ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে ঢাকা অঞ্চলের সোয়া দুই লাখ মানুষ বৃহত্তর বরিশালসহ বিভিন্ন উপকূলীয় জেলায় যাবেন

আপডেট : ১২ জুন ২০২৪, ০১:৪৮ পিএম

আসন্ন ঈদ-উল-আজহার ছুটিতে ঢাকা থেকে নৌপথে ভ্রমণকারী যাত্রীদের সংখ্যা ঈদুল ফিতরের তুলনায় বেশি হতে পারে। ফলে সম্ভাব্য ভিড়, অব্যবস্থাপনা এবং ব্যস্ত ভ্রমণের সময় বিপত্তি দেখা দিতে পারে। বেসরকারি ও সরকারি সংস্থা এবং নদী পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্তরা এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

আগামী ১৭ জুন (সোমবার) সারাদেশে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উদযাপিত হবে।

আগামী সপ্তাহের রবি, সোম ও মঙ্গলবার ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি। তার আগে এই সপ্তাহের বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবস এবং শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।

সে কারণে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলো থেকে ২০ লাখের বেশি মানুষ উপকূলীয় জেলাগুলোতে যাতায়াত করবেন বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।

শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরাম (এসসিআরএফ) জানিয়েছে, ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে ঢাকা অঞ্চলের সোয়া দুই লাখ মানুষ বৃহত্তর বরিশালসহ বিভিন্ন উপকূলীয় জেলায় যাবেন।

কিন্তু এবার ঈদযাত্রার সময় মাত্র চারদিন হওয়ায় নৌযান চলাচলে চাপ বেশি পড়বে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এসসিআরএফ সভাপতি আশীষ কুমার দে বলেন, “পদ্মা সেতুর কারণে নৌপথে যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে। কিন্তু তারপরও বিশেষ করে ঈদের সময় যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা অপ্রতুল।”

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ৯৫% নৌ-যাত্রী ঢাকা নদীবন্দর (সদরঘাট নদীবন্দর) ব্যবহার করবে।

ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের আওতায় সদরঘাট টার্মিনাল থেকে মোট ১৮০টি লঞ্চ চলাচল করবে। এসব নৌপরিবহনের মধ্যে ঢাকা ছাড়বে ৯০টি, বিভিন্ন স্থান থেকে ৯০টি ঢাকায় আসবে।

কিন্তু চার দিনে ৯০টি লঞ্চ দিয়ে বিপুল সংখ্যক ওয়ানওয়ে যাত্রী নির্বিঘ্নে পরিবহন করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জাতীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদ মিয়া বলেন, “অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ যেমন রয়েছে, তেমনি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও রয়েছে।”

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক (বন্দর ও ট্রাফিক) আলমগীর কবির বলেন, “ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ভ্রমণকারীরা যাতে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন সেজন্য আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “গন্তব্যে যাওয়ার পথে সবগুলো লঞ্চ ঢাকা নদী বন্দরের পাশাপাশি নিকটবর্তী বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত। তাই যাত্রার সময় কোনো ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের (লঞ্চ) জানানো হবে।”

ঢাকা নদীবন্দরের দায়িত্বে থাকা আলমগীর কবির জানান, “আসন্ন ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে বিআইডব্লিউটিসির বিশেষ স্টিমার সার্ভিস চালু হবে।”

এসব স্টিমার সার্ভিস ঢাকা নদীবন্দর থেকে ১৩, ১৬ ও ২০ জুন মোরেলগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এবং ১৪, ১৮ ও ২২ জুন মোরেলগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপথ যাত্রীবাহী পরিবহন সমিতির (বিআইডব্লিউটিএ) সিনিয়র সহসভাপতি বদিউজ্জামান বাদল বলেন, “ঈদে ঘরমুখো মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে তাদের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।”

এবারের ঈদযাত্রায় সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “লঞ্চগুলো বর্তমান আবহাওয়া অনুযায়ী চলতে সক্ষম।”

তিনি বলেন, “আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিয়মিত আবহাওয়ার সতর্কতা পাচ্ছি। ঈদে ঘরমুখো মানুষ ঝামেলামুক্ত ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।” 

   

About

Popular Links

x