প্রকৃতির রূপ-বৈচিত্র্যের জেলা রাঙ্গামাটিতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ছুটি শেষেও যেন ঈদ-উল-আজহার আমেজ কাটছে না। এখনও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা পরিবার-পরিজনসহ আসছেন রাঙ্গামাটিতে। তারা প্রশান্তির ছোঁয়া খুঁজতে ভিড় করছেন পার্বত্য এ জেলার হ্রদ-পাহাড়ে।
পর্যটকদের জন্য মনোমুগ্ধকর কাপ্তাই হ্রদ ছাড়াও পর্যটন কমপ্লেক্স এলাকায় হ্রদের ধারে দুই পাহাড়ের মাঝে স্থাপিত ঝুলন্ত সেতু পর্যটকদের নজর কাড়ছে।
এছাড়াও রয়েছে শুভলং ঝরনা ,পুলিশ পলওয়েল পার্ক, ডিসি বাংলো, বার্গী লেক ভ্যালী, রাজবন বিহার, কাপ্তাই নিসর্গ পড হাউজ, বাঘাইছড়ির সাজেক কিংবা আসামবস্তী-কাপ্তাই সড়কের অপরুপ সৌন্দর্য। এর সবই অবলোকন করতে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
ঈদের পর গত কয়েক দিনে রাঙ্গামাটিতে ১০,০০০-এর বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। জেলার পর্যটন ব্যবসায়ীরাও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। ঈদ উপলক্ষ্যে তারা নিয়েছিলেন ব্যাপক প্রস্তুতি।
পর্যটকরাও রাঙ্গামাটির বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরে খুশি হচ্ছেন। ঢাকার গাজীপুর থেকে রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু দেখতে এসেছেন রবিউল। তিনি বলেন, “রাঙ্গামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুবই মনোরম। কাপ্তাই হ্রদ, পলওয়েল পাক, শুভলং ঝরনা খুবই ভালোে লেগেছে।”
চট্টগ্রাম থেকে পরিবার নিয়ে দ্বীপ চৌধুরী এসেছেন রাঙ্গামাটির বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরতে। তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমার দৃৃষ্টিতে দেশের অন্যান্য পর্যটন এলাকার চেয়ে রাঙ্গামাটি অনেক সুন্দর। এখানকার কাপ্তাই হ্রদ, শুভলং ঝরনা, আসামবস্তী-কাপ্তাই সড়কের মনোরম দৃশ্য আমাকে খুবই বিমোহিত করে তোলে।”
পর্যটক রাফসান আহমেদ বলেন, “এখানকার পর্যটনকে আরও একটু ঢেলে সাজানো প্রয়োজন আছে। এখানে ঝুলন্ত সেতু ছাড়া তেমন কিছু দেখার নেই। তবে, রাঙ্গামাটির আসামবস্তী-কাপ্তাই সড়কে নতুন সংযোজন লাভ পয়েন্ট আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। এই সড়কের পাশে কাপ্তাই হ্রদের মনোরম দৃশ্য আমাকে মুগ্ধ করেছে।”
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে ৫০-৭০% হোটেল-মোটেল বুক করা রয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। তারা এবার ভালো ব্যবসার প্রত্যাশা করছেন।
এদিকে, সাজেকের কুঁড়েঘর রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “সাজেকে পর্যটকদের প্রচুর সমাগম হয়েছে। গত দুই দিনের চেয়ে এখন প্রায় ৫,০০০ পর্যটক সাজেক ভ্রমণ করছেন। সাজেকের রিসোর্টগুলোতে শতভাগ বুকিং আছে।”
কাপ্তাই নিসর্গ পড হাউসের স্বত্তাধিকারী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে পড হাউসে ঈদের দুই দিন আগে থেকে আগামী ২২ জুন (শনিবার) পর্যন্ত সবকটি রুম বুকিং রয়েছে। কাপ্তাইয়ে প্রচুর টুরিস্ট আসছেন।”
রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, “গত তিনদিন রাঙ্গামাটিতে প্রচুর টুরিস্ট এসেছে। আমাদের মোটেলে ৭০% বুকিং আছে। আশা করছি, আগামী দিনগুলোতেও রাঙ্গামাটিতে টুরিস্টদের ভালো সমাগম হবে।”



