Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জাহাজে ৭ খুন: লাশ নিতে হাসপাতালের সামনে স্বজনদের ভিড়

রাতে লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। জানতে পেরে হাসপাতালের সামনে ভিড় করেন নিহতদের স্বজনরা

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৩:১৭ পিএম

চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাট এলাকায় মেঘনা নদীতে থেমে থাকা সারবাহী জাহাজে সাত খুনের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের লাশ নিতে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের সামনে ভিড় করেছেন স্বজনেরা। জানা গেছে, ময়নাতদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করবে পুলিশ

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ খবর জানতে পেরে হাসপাতালের সামনে ভিড় করেন নিহতদের স্বজনরা।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ আখন্দ বলেন, “রাতে লাশগুলো আসে। আমরা এই সাতটি লাশের সুরতহাল শেষে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করবে পুলিশ।”

নিহত ব্যক্তিরা জাহাজটির কর্মী। তাদের মধ্যে চারজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- জাহাজের মাস্টার ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়া (৬৫), চালক সালাউদ্দিন মোল্লা, সুকানি আমিনুল ও লস্কর সবুজ শেখ (২৬)। কিবরিয়া ও সবুজ মামা-ভাগনে। সালাউদ্দিন ও আমিনুলের বাড়ি নড়াইল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এছাড়াও গুরুতর অবস্থায় জুয়েল রানা (২৩) নামে এক সুকানিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার শ্বাসনালী কেটে গেছে। তিনি শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

জাহাজের ইঞ্জিনচালক সালাউদ্দিন মোল্লার চাচাতো ভাই ও আরেক জাহাজের মাস্টার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা গতকাল দুপুরে ফেসবুকের মাধ্যমে খবর পাই, আল-বাখেরা জাহাজে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। খবর পেয়ে আজকে লাশ নিতে এসেছি।”

তার অভিযোগ, “এটি একটি পরিকল্পত ঘটনা। চাঁদপুরের এই নৌ রুটে ব্যাপক চাঁদাবাজি চলে। বিশেষ করে যেখানে এই ঘটনা ঘটেছে, সেখানে সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজি হয়। চাঁদা না দিলে মারধর করা হয়। বিষয়টি প্রশাসনও জানে। কিন্তু ব্যবস্থা নেয় না। এজন্য নিরুপায় হয়ে সবাই চাঁদা দিয়ে থাকেন। হয়তো সেই চাঁদাবাজরাই এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত।”

নিহতদের স্বজনরা বলেন, এ ঘটনায় বেঁচে থাকা ফরিদপুরের জুয়েল (৩৫) একমাত্র বলতে পারবেন, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত।

চাঁদপুর নৌ পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা করতে পারিনি। তবে প্রক্রিয়া চলছে। তবে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ পৃথক তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। দুপুরের মধ্যে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

   

About

Popular Links

x