নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচলের ২২ নম্বর সেক্টরে অধিগ্রহণকৃত ১৭টি মৌজায় বসবাস করা মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নির্মিত “কালনী সামাজিক কবরস্থান” রাতের আঁধারে বিনা নোটিশে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজউকের বিরুদ্ধে। এমনকি আগামী ৬ মাস সেখানে কোনো কবর দিতে রাজউক কর্তৃপক্ষ নিষেধ করেছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
তবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) বলছে, কবরস্থান সংস্কারের জন্য ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হয়েছে। কবরস্থান আরও বড় পরিসরে করা হবে।
এদিকে স্বজনদের ভাঙা কবর দেখে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচল প্রকল্প তৈরি করার জন্য ১৯৯৫ সালে ১৭টি মৌজার জমি অধিগ্রহণ করে রাজউক। ২০১২ সালের দিকে সেখানে বসবাসরত অধিবাসীদের মৃত্যুর পর কবর দেওয়ার জন্য পূর্বাচল ২২ নম্বর সেক্টর (কালনী) এলাকায় কবরস্থানের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়। যার নাম দেওয়া হয় “কালনী সামাজিক কবরস্থান”। কবরস্থানটিতে এখন পর্যন্ত পূর্বাচলের ১৭ মৌজায় বসবাসরত প্রায় ৩০০ মৃত ব্যক্তির কবর দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে কোনো প্রকার নোটিশ না দিয়ে রাতের আঁধারে এক্সকাভেটর দিয়ে কবরস্থানটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে রাজউকের নিয়োজিত ঠিকাদারের লোকজন। খবর পেয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা-কমান্ডারসহ সাধারণ লোকজন তাদের বাধা দিতে গেলে তাদের ঠেকানো যায়নি। এমনকি আগামী ৬ মাস কোনো মৃত ব্যক্তির কবর দেওয়া যাবে না বলে রাজউক কর্তৃপক্ষ নিষেধ করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তবে কবরস্থান আরও বড় পরিসরে, সুন্দরভাবে করার জন্য সংস্কার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন রাজউকের নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “কবরস্থান ভাঙচুরের বিষয়টি স্থানীয় লোকজন আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে কীভাবে সমাধান করা যায় সে ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে কথা বলবো।”
রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী (পূর্বাচল প্রকল্প বাস্তবায়ন) মো. নুরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “কবরস্থানের কোনো কবর ওঠানো হয়নি। কবরস্থানে ঝোপ-জঙ্গল ছিল সেটা পরিষ্কার করা হয়েছে। কবরস্থান আরও সুন্দর করা হচ্ছে। বনানী কবরস্থানের মতো সুন্দর করে বাউন্ডারি দেয়াল করে দেওয়া হবে। ওয়াকওয়ে থাকবে যাতে করে চলাচল করা যায়। এছাড়া এখানে আরও বড় পরিসরে ১৬ একর জমিতে ১০ হাজার ৭৩৬টি কবর দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা হয়েছে তাদের জন্য ১৫টি কবর দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।”



