Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মাদারীপুরে আগুনে পুড়ে গেছে ২ বাড়ি, ২৩ দোকান

অগ্নিকাণ্ডে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১২:২০ পিএম

মাদারীপুরে আগুনে পুড়েছে ১৮টি দোকান, দুইটি বাড়ি ও তিনটি গোডাউন। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। তবে এ ঘটনায় কারো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে শহরের বাণিজ্যিক এলাকা পুরানবাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৩টার দিকে সৌরভ হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয় মিজানুর রহমানের মালিকানাধীন বাড়ি ও ১৫টি দোকান ও শহিদ খানের বাড়ি ও তার মালিকানাধীন তিনটি দোকান (হার্ডওয়ার) ও তিন গোডাউন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা সুমিত মণ্ডল জানান, শুক্রবার ভোর ৩টার দিকে লাগা এ আগুন ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনে।

সুমিত বলেন, “সিটি সুপার মার্কেটের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মাদারীপুরসহ রাজৈর কালকিনি ও শরীয়তপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে।”

তিনি আরও বলেন “ভোর ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে মার্কেটে সারিবদ্ধ ভাবে থাকা দশটি কসমেটিকসের দোকান, সাতটি ব্যাগের দোকান, কম্পিউটারের দোকান, কনফেকশনারি, তিনটি হার্ডওয়ারের দোকান, তিনটি গোডাউন এবং মার্কেটের পেছনে থাকা তিনটি টিনের ঘরও আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।”

সুমিত মণ্ডল বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছি।”

মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে মাদারীপুর, কালকিনি ও টেকেরহাট ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগেই পু্ড়ে ছাই হয়ে যায় কাপড়, গার্মেন্টস, কসমেটিকসের ১৮টি দোকান। এ সময় দুটি বাড়ি, তিনটি গোডাউন ও ১৮টি দোকান পুড়ে যায়। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের।

কসমেটিকস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সুমন বলেন, “আমার দোকানে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মাল ছিল। আমি ঈদের জন্য মাল কিনেছিলাম। কিন্তু সব বিক্রি করতে পারিনি। আমার অনেক ঋণ রয়েছে। আমি যাতে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারি, তার জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা দাবি করছি।”

ব্যাগ ব্যবসায়ী জুয়েল হোসেন বলেন, “আমার দোকানে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার মালামাল ছিল। আমি এমনিতেই ঋণগ্রস্ত। আগুনে পুড়ে আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। আমার আর ঘুরে দাঁড়ানোর রাস্তা নেই। সরকারের কাছে দাবি জানাই, যেন আমার পাশে থাকে।”

স্থানীয়দের দাবি, বাণিজ্যিক এলাকা পুরানবাজারে পানি সরবরাহ করতে দেরি হওয়ার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। আগামীতে যেন এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হয় এ জন্য এ এলাকায় একটি ফায়ার স্টেশন করার দাবি করেন তারা।

 

   

About

Popular Links

x