সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে গেছেন। জানা গেছে, দেশের চিকিৎসকদের পরামর্শেই তিনি বিদেশে গেছেন।
বুধবার (৭ মে) দিবাগত রাত ৩টা ৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তিনি ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। ইমিগ্রেশনের ডিআইজি মোয়াজ্জেম হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, রাত ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান আবদুল হামিদ। পরে ইমিগ্রেশনে আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে দেশত্যাগে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। তার দেশত্যাগে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না।
আবদুল হামিদের পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আবদুল হামিদের সঙ্গে শ্যালক ডা. নওশাদ খান ও ছোট ছেলে রিয়াদ আহমেদ সফরসঙ্গী হয়েছেন।
বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের বিশেষ শাখার এস এস আখতারুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “তার বিরুদ্ধে আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা বা গ্রেপ্তারের নির্দেশনা আমাদের কাছে ছিল না। সংবিধানের ৩৪ ও ১০২ ধারা অনুযায়ী, আদালতের সুনির্দিষ্ট আদেশ ছাড়া কাউকে দেশত্যাগে বাধা দেওয়া যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো গোয়েন্দা সংস্থা থেকেও তার বিষয়ে আলাদা কোনো নির্দেশনা আসেনি। বয়স বিবেচনায়ও বিষয়টি দেখা হয়েছে।”
আবদুল হামিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শুক্রবার থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার করানো হবে। চিকিৎসা শেষে তার দেশে ফিরে আসার কথা রয়েছে।
আবদুল হামিদের ছেলের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি বেশ কয়েক মাস ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। তিনি গত মাসে ১০ দিনের বেশি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শেই বিদেশে গেছেন তিনি।
জানা গেছে, আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। তবে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা আদালতের কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি।
আবদুল হামিদ ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল প্রথম দফায় দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এরপর তিনি ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল দ্বিতীয়বারের মতো ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।



সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দেশ ছাড়ার গুঞ্জন