Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কিশোরের বিরুদ্ধে মহানবিকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, ১৫ বসতঘর ভাঙচুর

ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৫, ০৯:০৮ পিএম

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগ উঠেছে এক কিশোরের (১৭) বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় উত্তেজিত লোকজন ওই কিশোরের বাড়িসহ সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজনের অনন্তত ১৫টি বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল শনিবার রাতে ও আজ রবিবার (২৭ জুলাই) বিকেলে এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ ওঠার পর শনিবার রাতেই ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তৃতীয় পর্বের শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত আটটার ওই কিশোরকে থানায় নেওয়ার পর তার বিচারের দাবিতে মিছিলসহ উত্তেজিত লোকজন তার বাড়ির সামনে যায়। রাত ১০টার দিকে দ্বিতীয়বার আরেকটি মিছিল এসে কিশোরের এক স্বজনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে। পরে রাতে থানা-পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রবিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উত্তেজিত জনতা আবারও বাড়িঘরে হামলা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে হামলা শুরু করে। সবমিলিয়ে ১৫টি বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। এ সময় বাড়িগুলোতে লুটপাটেরও অভিযোগ উঠেছে।

গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান বলেন, “ওই কিশোর ফেসবুকে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর লেখা ও ছবি দিয়েছে—এমন অভিযোগ পায় পুলিশ। পরে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করে রাত সাড়ে আটটার দিকে থানায় আনা হয়। পরে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে সম্মিলিত শিশু পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয়।”

ওসি জানান, গতকাল রাত একটা পর্যন্ত ওই এলাকায় পুলিশ ছিল। পরিস্থিতি শান্ত করার পর তারা চলে আসেন। আজ জোহরের নামাজের পর হাজার হাজার লোক সেদিকে যাবেন—এমন খবর পেয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং তারা সেনাবাহিনীর সাহায্য চান। বেলা একটা থেকে পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয়। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে উত্তেজিত জনতা বাড়িঘরে হামলা শুরু করলে পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর হয়। এতে পুলিশ সদস্যদের অনেকে আহত হয়েছেন। একজন কনস্টেবলকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা চলে যায়।

ঘটনার পর থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এলাকায় টহল দিচ্ছে। তবে ওই এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

   

About

Popular Links

x