জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং স্থায়ী বিধানে যুক্ত করার দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রেখেছেন “জুলাই যোদ্ধারা”। যা আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান রয়েছে। এতে শাহবাগ মোড়সহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। সৃষ্টি হয়েছে চরম জনদুর্ভোগ।
এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছে জুলাই শহিদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ব্যানারে সংগঠিত “জুলাই যোদ্ধা সংসদ” নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। প্ল্যাটফর্মটির দাবি, জুলাই সনদ নিয়ে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছেন।
অবরোধের কারণে শাহবাগ মোড় বন্ধ থাকায় পাশের কাঁটাবন মোড়, মৎস্য ভবন, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও শাহবাগ থানার সামনের রাস্তাগুলো থেকেই যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আন্দোলনে শহিদ পরিবারের স্বজন ও আহত ব্যক্তিরা ব্যানার, ফেস্টুন হাতে স্লোগান দিচ্ছেন- “জুলাই সনদ দিতে হবে”, “টালবাহানা চলবে না”, “অন্তর্বর্তী সরকার জবাব দাও”। সড়কের চারপাশে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছেন।
জুলাইযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আরমান শাফিন জানান, সরকার থেকে তাদের দাবির বিষয়ে কোনো ইতিবাচক ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত তারা শাহবাগ ত্যাগ করবেন না। তিনি বলেন, “আমরা দেশের ৬৪ জেলা থেকে শহিদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাইযোদ্ধারা নিজের খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে এখানে অবস্থান নিয়েছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকবো।”
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মাসুদ রানা সৌরভ বলেন, “সরকার থেকে আমাদের সঙ্গে এখনও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। আমাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, জুলাই সনদ ছাড়া জীবন চলে গেলেও আমরা শাহবাগ ছাড়বো না।”
আন্দোলনকারীদের দাবি করা ৮ দফার মধ্যে রয়েছে- জুলাই শহিদ ও যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, শহিদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের আজীবন সম্মান, চিকিৎসা, শিক্ষা, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা, রাষ্ট্রীয়ভাবে চিকিৎসা ও কল্যাণ ব্যয় বহন, সম্মানজনক আজীবন ভাতা, আইনগত সুরক্ষা ও সহায়তা কেন্দ্র, দমন-পীড়নের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার, “স্বাধীন সত্য ও ন্যায় কমিশন” গঠন ইত্যাদি।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর বলেন, “বিক্ষোভকারীরা গতকাল রাতেও শাহবাগে অবস্থান করেছিলেন। আজও তারা আছেন। আমরা এখনও ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি।”



