Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কফি ও কাজু বাদামের আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে চায় বাংলাদেশ

'কাজুবাদাম, কফি, মিষ্টি আলুসহ অপ্রচলিত ফসল চাষাবাদে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে'

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ১১:২৯ পিএম

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক কৃষি বাণিজ্যিকীকরণ, শিল্পমুখী ও রপ্তানীমুখীকরণ এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে কৃষকদের অপ্রচলিত ফসল চাষাবাদে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। 

তিনি বুধবার বিকেলে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার ট্রেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের বিলাসপুর মেলাপাড়া এলাকায় কাজুবাদাম ও জাপানী মুরাসাকি ও ওকিনাওয়া জাতের মিষ্টি আলু চাষাবাদের প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শনে গিয়ে এ আহ্বান জানান। 

মন্ত্রী বলেন, "বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার ফলে কৃষিতে আজ বিরাট সফলতা এসেছে। ভবিষ্যতে কৃষিকে বাণিজ্যিকিকরণ করতে চাই, কৃষি থেকে উৎপাদিত ফল ও ফসল প্রসেসিং করে উন্নতমানের খাদ্য উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করতে চাই। কাজুবাদাম, কফি এগুলোর অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও এগুলোর অনেক চাহিদা এবং বাজার অনেক বড়। এর বাজার ক্রমান্বয়ে প্রসারিত ও বর্ধিত হচ্ছে। ভিয়েতনাম এসব রপ্তানি করে ৮ বিলিয়ন ডলার আয় করে।" 

বাংলাদেশ কফি, কাজু বাদাম, মিষ্টি আলুসহ অন্যান্য প্রচলিত কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে চায় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশের যে আবহাওয়া এবং জলবায়ু এবং জমি এখানে কাজুবাদাম ও কফি দুটোই চাষাবাদ করা যাবে। এ জন্য আমরা কাজুবাদাম, কফি, মিষ্টি আলুসহ অপ্রচলিত ফসল চাষাবাদে কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। অনেক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এসব ফষল চাষাবাদ করে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করতে হবে।"  

মন্ত্রী বলেন, "কফি, কাজুবাদামসহ অপ্রচলিত ফসলের চাষাবাদে ও প্রক্রিয়াজাতে কৃষক ও উদ্যোক্তাসহ যারা এগিয়ে আসবেন তাদেরকে উন্নত জাতের চারা সরবরাহ, উৎপাদনে পরামর্শ, কারিগরি ও প্রযুক্তিসহ সকলক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে।"

মন্ত্রী আরও বলেন, "বর্তমান সরকার কৃষিকে বহুমুখীকরণ করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা মূলত দেশে ধান উৎপাদন করি, ধানের দাম অনেক সময় কমে যায় চাষিরা লাভবান হয় না। কৃষিকে লাভবান করতে হলে ধানের সাথে সাথে অন্য অর্থকরী ফসল করে কৃষকরা যাতে আয় করতে পারে লাভবান হতে পারে এ জন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।" 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "এবার আমন ও আউশের উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে চালের দাম একটু বেশি। এ বিষয়ে আমরা বিভিন্ন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। নিম্ন আয়ের মানুষের যেন কষ্ট না হয় সে জন্য আমরা ওএমএসের চাল ১০ টাকা কেজি দরে চাল দিচ্ছি। এমনকি চালের দাম কমানোর জন্য সীমিত পরিসরে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করা হচ্ছে। কৃষিতে এখন উভয় সংকট। বেশি দাম বাড়লে গরিব মানুষ কষ্ট পায় আবার দাম কমলে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হন।"

তবে বর্তমানে চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। 

মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো.আসাদুল্লাহ, অতিরিক্ত সচিব মাহবুবুল ইসলাম, কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোখলেছুর রহমান, পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক ড. সাবিনা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

About

Popular Links