Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে পোশাক রপ্তানি কমেছে

দেশ-বিদেশে নির্দিষ্ট পোশাক রপ্তানির তথ্য অনুযায়ী, প্রধান বৈশ্বিক গন্তব্যে রপ্তানিও কমেছে

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৩, ০৫:৪৮ পিএম

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির বৃহত্তম ও দ্বিতীয় বৃহত্তম একক গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-মার্চে রপ্তানি কমেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশ-বিদেশে নির্দিষ্ট পোশাক রপ্তানির তথ্য অনুযায়ী, প্রধান বৈশ্বিক গন্তব্যে রপ্তানিও কমেছে।

অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশের নির্মাতারা যুক্তরাষ্ট্রে ৬.২৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক পণ্য পাঠিয়েছে। যা ২০২২ অর্থবছরের ৬.৫৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫.০১% কম।

একই সময়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার জার্মানিতে ৫.১৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে। যা ২০২২ অর্থবছরের ৫.৩৭ বিলিয়ন ডলার থেকে ৪.১৬% কম।

তবে তৃতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাজ্যে এ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ৩.৮৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক পণ্য। যা ২০২২ অর্থবছরের ৩.৩৭ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ১৪.০৪% বেড়েছে। 

এছাড়াও অন্যান্য বাজার যেমন, স্পেনে ১৮.৮২% থেকে বেড়ে ২.৬৯ বিলিয়ন ডলার, ফ্রান্সে ২৫.২৩% বেড়ে ২.১৪ বিলিয়ন ডলার, ইতালিতে ৫০.৪% থেকে বেড়ে ১.৭ বিলিয়ন ডলার ও নেদারল্যান্ডসে পোশাক রপ্তানি ২৮.১৮% থেকে বেড়ে ১.৩৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নে পোশাক রপ্তানি ২০২২ অর্থবছরের ১৫.৭৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ১১.৭৮% বেড়ে ১৭.৬১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। 

কানাডায় রপ্তানি ১.০৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২২ অর্থবছরের ৯২৫.৯৮ মিলিয়ন থেকে ১৭.৬৮% বেড়েছে। 

২০২২ অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৪.৭৮ বিলিয়ন ডলার। তবে এ অর্থবছরে ৩৪.৭৪% থেকে বেড়ে ৬.৪৪ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।

জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, মেক্সিকো এবং আরও কয়েকটি দেশ অপ্রচলিত বাজার হিসাবে পরিচিত।

অপ্রচলিত বাজারের প্রধান গন্তব্যগুলোর মধ্যে, জাপানে রপ্তানি ১.২২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত অর্থবছরে ৮৯৪.৬৪ মিলিয়ন ডলার থেকে ৪৩.৭৯% বেড়েছে। 

২০২২-২৩ অর্থবছরে জুলাই-মার্চে ভারত থেকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে আয় ৮৩০.৫১ মিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরে ছিল ৫২৪.৩৯ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এখানে ৫৮.৩৮% বেড়েছে। 

ইপিবির তথ্য অনুসারে, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকোতে অপ্রচলিত বাজার রপ্তানি যথাক্রমে ৪২.২২% বেড়ে ৮৮৯.৮৮মিলিয়ন ডলার, ৩৪.৬৯% থেকে ৪৪৯.৫৫ মিলিয়ন ও ৩৮.৫৩% বেড়ে ২৬৩.৭৪ মিলিয়ন ডলার হয়েছে।

ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, পোশাকের চালানের প্রবৃদ্ধি মূল্যের ভিত্তিতে হয়েছে। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এখানে পড় প্রভাব ফেলেছে।

তিনি আরও বলেন, “ইইউ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরিস্থিতি এতটা ভালো নয়। তারা আগামী তিন বা চার মাসে কোনো ইতিবাচক লক্ষণ দেখছে না। তবে জুন বা জুলাইয়ের পর পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।”

তিনি বলেন, পর্যাপ্ত কাজের আদেশ নেই। বেশিরভাগ রপ্তানিকারক তাদের কারখানার ৬০% -৭০% ক্ষমতাতে চালাচ্ছেন।

তিনি বলেন, বেশিরভাগ কারখানা প্রতিদিন বিকেল ৪টায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।  

বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বিশ্বে একটি অর্থনৈতিক টালমাটাল রয়েছে যা ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে।

“আমরা যেখানে বেশি রপ্তানি করি সেই বাজারগুলো মূলত মূল্য ভিত্তিক। কাঁচামালের দাম বাড়ায় প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। তবে এখনও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের রপ্তানি বাড়ছে। এটি একটি বড় সত্য,” তিনি যোগ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, “প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের এই বিশ্ববাজারে টিকে থাকার লড়াই করতে হবে।”

“বিজিএমইএ নতুন বাজার অনুসন্ধানের সুবিধার্থে কাজ করছে, পাশাপাশি আমরা ব্যবসাকে সহজ ও সহজ করার জন্য নীতি সংস্কারে কাজ করছি। নতুন সুযোগ অন্বেষণে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ সবচেয়ে নিরাপদ এবং টেকসই সোর্সিং হাব,” তিনি যোগ করেন।

   

About

Popular Links

x