Friday, July 24, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সবজি-পেঁয়াজ-মাছের দাম বাড়ছে, বাজার মনিটরিংয়ের দাবি

প্রায় সব সবজিই কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। ৭০০ টাকার চিংড়ি হয়েছে হাজার টাকা। পেঁয়াজ কেজিতে বেড়েছে ১৫ টাকা। মনিটরিংয়ের অভাবে সবকিছুর দাম বাড়ছে বলে মনে করেন ক্রেতারা

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৩, ০২:২৮ পিএম

ঢাকার কাঁচাবাজারে প্রায় সব সবজির দামই চড়া। সবজির সঙ্গে মাছের দামও ঊর্ধ্বমুখী। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দামও।

শুক্রবার (১১ আগস্ট) এক সরেজমিন প্রতিবেদনে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন জানায়, প্রায় সব সবজিই কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। সরকারের মনিটরিংয়ের অভাবে সবকিছুর দাম বাড়ছে বলে মনে করেন ক্রেতারা।

দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। যদিও গত মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছিল তবে খাদ্যপণ্যে এটি ছিল বাড়তিই। জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৭৬%।

সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা

শুক্রবার ঢাকার মিরপুরের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়, গোল বেগুন ৮০ টাকা, শসা ১২০ টাকা, করল্লা ১০০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, টমেটো ২৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০-৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ২৪০ টাকা, ধনেপাতা ৩০০ কেজি।

এছাড়া লাউ ৮০ টাকা, চালকুমড়া ৭০-৮০ টাকা পিস। কাঁচাকলা ৩৫-৪০ টাকা হালি। গত সপ্তাহের সঙ্গে তুলনা করলে সব সবজির দাম বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা। শসার দাম বেড়েছে দ্বিগুণ।

পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫ টাকা

শুক্রবার দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়, ক্রস জাতের পেঁয়াজ ৮০-৯০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০ টাকা,  আদা ২০০-২২০ টাকা, চায়না রসুন ২২০, দেশি রসুন ২২০ টাকা, আলু ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের সঙ্গে তুলনা করলে দেশি পেঁয়াজ ১৫ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ১০ টাকা,  ক্রস জাতের পেঁয়াজ ১৫-২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বন্যার কারণে দাম বাড়ছে।

কাঁচাবাজারে বাংলা ট্রিবিউন কথা বলেন মারুফ নামে এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, “বাজারে সবকিছুর দাম বেশি। এর কারণ সরকারের মনিটরিংয়ের অভাব। সরকার যদি ঠিকভাবে মনিটরিং করতো তাহলে এভাবে হুট করে দাম বাড়তো না।”

বেশিরভাগ মাছ হাজার টাকা কেজি

শুক্রবার ঢাকার বাজারে ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১,৩০০-২,০০০ টাকা, চিংড়ি মাছ ১,০০০-১,৪০০ টাকা, বেলে মাছ ১,০০০ টাকা কেজি, টেংরা মাছ ৮৫০ টাকা, পাবদা মাছ ৬০০ টাকা, শিং মাছ ৭০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকা, বোয়াল ৬৫০-৭৫০ টাকা, রুই মাছ ৪০০-৪৫০ টাকা, কাতল মাছ ৪৫০ টাকা, কৈ মাছ ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, “সবজির দাম বেশিই, সাথে যুক্ত হয়েছে মাছ। ছোট সাইজের যে চিংড়ি কিনতাম ৭০০ টাকা কেজিতে সেটা কিনতে হচ্ছে আজকে ১,০০০ টাকায়। আর ইলিশের দিকে তো তাকানোই যায় না।”

বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৭৮-১৮২ টাকা, কক মুরগি ২৯০-২৯৮, দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০-৭৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে সরকারও প্রায়ই উদ্বেগ প্রকাশ করে। এটি নিয়ন্ত্রণের প্রধান অন্তরায় হিসেবে বাজার সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে, এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে “নারাজ” সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সাম্প্রতিক অতীতে তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন। সেসময় তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে বাজারব্যবস্থা আরও অস্থির হয়ে উঠবে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ে সরকারের উদ্বেগ থাকলেও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এটিকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন না অনেক সময়। যেটি এ বছরের গত ৩১ মে মাদারীপুরে এক অনুষ্ঠানে উঠে আসে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খানের কথায়।

তিনি সেই অনুষ্ঠানে বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থাকলেও দেশে টাকার অভাব নেই। মানুষ আনন্দ-উৎসবে প্রচুর অর্থ খরচ করছে। এমনকি বিরোধী দল সভা-সমাবেশ ও আন্দোলনের নামে অর্থ খরচ করছে, তাতে মনে হয় না টাকার অভাব আছে। মানুষের হাতে টাকা আছে।”

   

About

Popular Links

x