Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঘোড়ার মাংসের ‘অবৈধ বাণিজ্য’ বন্ধে জয়া আহসানের রিট 

অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং জয়া আহসান এই রিট দায়ের করেন

আপডেট : ১১ মে ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

ঘোড়ার মাংস অবৈধভাবে বিক্রি ও বাণিজ্য বন্ধ এবং নিষিদ্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন অভিনেত্রী জয়া আহসান। একই সঙ্গে ঘোড়াকে গরুর মাংস বলে বিক্রি বন্ধের নির্দেশনা চায় রিটকারীরা। 

সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং অভিনেত্রী জয়া আহসান এই রিট দায়ের করেন। 

রিটকারী ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা হলেন, ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব, ড. সিনথিয়া ফরিদ ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান। 

আইনজীবীরা জানান, রিটে বিশেষত অসুস্থ প্রাণীগুলোকে মানুষের খাদ্য হিসেবে প্রতারণামূলকভাবে বাজারজাত করার বিষয়টিতে তারা উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। পূর্ববর্তী অনুরোধ সত্ত্বেও কার্যকর আইনগত কার্যকারিতার অভাব থাকায় পিটিশনকারীরা উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ে পাঠানো পূর্ববর্তী অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা এবং গাজীপুরে উন্মোচিত অবৈধ ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্যের বিষয়ে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্তের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। 

পিটিশনকারীরা আরও অনুরোধ করেছেন যেন কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের চর্চা নির্মূলে ৬০ দিনের মধ্যে একটি জাতীয় নির্দেশিকা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বাজেয়াপ্ত ও অসুস্থ ঘোড়ার নিলাম অবিলম্বে বন্ধ করা এবং উদ্ধারকৃত প্রাণীদের পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের জন্য যথাযথ সুবিধা বা অভয়ারণ্য- বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

রিটকারীরা বলছেন, তাৎক্ষণিক বিচারিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এই অবৈধ কার্যক্রম জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে থাকবে এবং প্রাণীদের প্রতি চরম নিষ্ঠুরতা অব্যাহত থাকবে। 

আইনজীবীরা গণমাধ্যমকে জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি কটন (তুলা) কারখানাকে অবৈধ জবাইখানায় রূপান্তর করে সংগঠিত অবৈধ ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। ওই অভিযানে প্রায় ৩৬টি গুরুতর অসুস্থ ঘোড়া ও ৮টি জবাইকৃত ঘোড়ার মৃতদেহ এবং বিতরণ ও বিক্রির জন্য প্রস্তুতকৃত বিপুল পরিমাণ মাংস উদ্ধার করা হয়। 

তারা আরও জানান, উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোকে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পাওয়া যায়। তারা অপুষ্টি, সংক্রমণ, উন্মুক্ত ক্ষত, পোকা সংক্রমণ, টিউমারসহ নানা জটিলতায় ভুগছিল। 
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী সংক্রমণ, ছত্রাক দূষণ ও সন্দেহজনক যক্ষ্মার উপস্থিতি শনাক্ত হয়। 

রিটে বলা হয়, এসব দূষিত মাংস গরুর মাংস হিসেবে বাজারে বিক্রি করে মানুষকে প্রতারিত করা হচ্ছিল। 

   

About

Popular Links

x