Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এফডিসিতে উত্তেজনা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ

 পুলিশের সদস্যরা লাঠি নিয়ে ধাওয়া শুরু করে দুই পক্ষের লোকদের

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২২, ০১:৫৬ পিএম

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমতির সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে একের পর এক নাটকীয় ঘটনা ঘটেই চলেছে। সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের পর বুধবার (২ মার্চ) বিকেল থেকেই এফডিসিতে চলছিল উত্তেজনা। এসময় বহিরাগত কিছু মানুষকেও জড়ো হতে দেখা গেছে বলে জানা যায়।

তবে সন্ধ্যা হতেই বদলে যায় পরিস্থিতির। হঠাৎই দৃশ্যপটে আগমন ঘটে পুলিশ বাহিনীর। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুলিশের সদস্যরা লাঠি নিয়ে ধাওয়া শুরু করে দুই পক্ষের লোকদের।

এ ঘটনায় চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। 

যদিও এ ঘটনাকে রুটিন টহল বলেছেন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম।

তিনি বলেন, “এফডিসি যেহেতু কেপিআইভূক্ত এলাকা। তাই এখানে নিয়মিতই আসি আমরা। এখন সেভাবেই এসেছি।”

এর আগে, বুধবার হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন যে, জায়েদ খানের প্রার্থীতা বৈধ। এর ফলে দায়িত্ব পালনে তার আর কোনো বাধা নেই। কেননা নির্বাচনে তিনিই বিজয়ী হয়েছিলেন।

জানা গেছে, রায়ের পর এফডিসিতে আসেন জায়েদ খান। শিল্পী সমিতির সামনে যান, কিন্তু প্রবেশ করতে পারেননি। কারণ সেখানে তালা লাগানো ছিল। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী নিপুণ আক্তারও গেছেন এফডিসিতে। তিনি অবস্থান নেন প্রযোজক সমিতির কার্যালয়ে।

এ সময় দুই পক্ষের সমর্থকদের স্লোগান দিতেও শোনা যায়। এর ফলে পরিস্থিতি কিছুটা বেসামাল হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে বহিরাগতের আনাগোনাও দেখা গেছে। তবে পুলিশ আসার পর জটলা পাকানো বহিরাগতরা দৌড়ে পালিয়েছে বলে জানান দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক।


আরও পড়ুন: নিপুণ নন, জায়েদ খানই চলচ্চিত্র সমিতির সাধারণ সম্পাদক 


প্রসঙ্গত, টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি শিল্পী সমিতি নির্বাচনের আপিল বোর্ড জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে। পরে ৭ ফেব্রুয়ারি আপিল বোর্ডের প্রার্থিতা বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন জায়েদ খানের আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথি।

পরে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচনের আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। মামলার বিবাদীদের এক সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন নিপুণ। পরবর্তীতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি নির্বাচনে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন আদালত।

১৪ ফেব্রুয়ারি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি নির্বাচনে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে চিত্রনায়িকা নিপুণের শুনানি শেষে নিষ্পত্তি করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। পাশাপাশি হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ শিল্পী সমিতি নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদের ওপর চেম্বার আদালতের স্থিতিবস্থা ও স্থগিতাদেশও বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল শিল্পী সমিতির নির্বাচন। সেখানে সাধারণ সম্পাদক পদে জয়লাভ করেন জায়েদ খান। এটা ছিল তার টানা তৃতীয়বারের জয়। তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নায়িকা নিপুণ অভিযোগ তোলেন, নির্বাচনে দুর্নীতি করেছেন জায়েদ। টাকা দিয়ে ভোটও নাকি কিনেছেন। এসব অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনও করেছিলেন নিপুণ। লিখিত অভিযোগ জানান নির্বাচনের আপিল বোর্ডের কাছেও। আপিল বোর্ড বিষয়টি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে জানায়। এরপরই বোর্ডকে বিষয়টির সুরাহা করার দায়িত্ব দেয় মন্ত্রণালয়। আপিল বোর্ড জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করলে শপথ নেন নিপুণ।

About

Popular Links