ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের জীবনের ওপর কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস “ভালোবাসা প্রীতিলতা” অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “বীরকন্যা প্রীতিলতা”। নির্মাণ করেছেন প্রদীপ ঘোষ।
এ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। সিনেমাটির মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর বড়পর্দায় ফিরছেন তিশা।
সিনেমাটিতে প্রীতিলতার চরিত্রে অভিনয় করছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা এবং বিপ্লবী রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের চরিত্রে অভিনয় করছেন মনোজ প্রামাণিক। মাস্টারদা সূর্যসেন চরিত্রে অভিনয় করছেন কামরুজ্জামান তাপু। সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন বাপ্পা মজুমদার।
আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে “বীরকন্যা প্রীতিলতা” সিনেমাটি। তার আগে, বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স-এর স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটির প্রিমিয়ার শো-এর আয়োজন করা হয়। যেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সিনেমার কলাকুশলীরা।
বীরকন্যা প্রীতিলতায় অভিনয় প্রসঙ্গে তিশা সাংবাদিকদের বলেন, “এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করতে পারা যেকোনো অভিনেত্রীর জন্য সম্মানের বিষয়। আমাকে যখন এই চরিত্রের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয় আমি দুইবার চিন্তা করিনি। বলেছিলাম, অবশ্যই আমি করব। ইতিহাস নির্ভর যেকোনো কাজ করতে আমার ভালো লাগে। আর সেটি যদি নাম ভূমিকায় হলে তাহলে ভালো লাগা তো আরও বেড়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “যেহেতু কোনো ভিডিও ডকুমেন্ট আমাদের কাছে ছিল না, তাই প্রীতিলতাকে ধারণ করা চ্যালেঞ্জের ছিল। বই পড়ে চরিত্রগুলো আমাদের সবার ধারণ করতে হয়েছে। কতটুকু পেরেছি সেটি দর্শক ভালো বলতে পারবে। তবে আমরা আমাদের তরফ থেকে শতভাগ চেষ্টা করেছি।”
প্রসঙ্গত, ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেনের নির্দেশে প্রীতিলতা হামলা করেছিলেন চট্টগ্রামের ব্রিটিশ প্রমোদকেন্দ্র ইউরোপিয়ান ক্লাবে। ২৩ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে হামলা শেষে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন তিনি এবং পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দেন।
এই মহান বিপ্লবীর জীবনের অবিস্মরণীয় অজানা গল্প উঠে এসেছে সিনেমাটি।২০২২ সালের ২৫ নভেম্বর সিনেমাটির মুক্তির তারিখ নির্ধারণ করা হলেও শেষ মুহূর্তে কিছু কারিগরি সংকট দেখা দেওয়ায় পেছানো হয়। সিনেমাটি সরকারি অনুদানে নির্মিত হয়েছে।



