সব ধরনের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে অস্কারজয়ী ভারতীয় সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমানের গাওয়া কাজী নজরুল ইসলামের “কারার ওই লৌহ কপাট” গানটি অপসারণে রিট করা হয়েছে।
বুধবার (৬ ডিসেম্বর) মানবাধিকার সংগঠন ল' অ্যান্ড লাইভ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির রিটটি করেন। এর আগে গত ১৯ নভেম্বর
রিটে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিটিআরসি ও কবি নজরুল ইনস্টিটিউটকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটকারীরা হলেন- মানবাধিকার সংগঠন ল' অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বায়েজীদ হোসাইন, নাঈম সরদার, ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষার, ব্যারিস্টার মাহদী জামান, ব্যারিস্টার শেখ মঈনুল করিম, ব্যারিস্টার আহমেদ ফারজাদ, শহিদুল ইসলাম, মো. শাহেদ সিদ্দিকী, মো. আনাস মিয়া ও মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান।
এর আগে গত ১৯ নভেম্বর গানটি অপসারণে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে গানটি অপসারণ করতে বলা হয়। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবার রিট করা হলো।
নোটিশে বলা হয়, কবি কাজী নজরুল ইসলামের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ “কারার ওই লৌহ কপাট” গানটিতে এ আর রহমান নতুনভাবে সুরারোপ করেছেন। এটি ব্যবহার করা হয়েছে “পিপ্পা” নামের একটি হিন্দি চলচ্চিত্রে। এ আর রহমান গানের কথা ঠিক রাখলেও সুরের পরিবর্তন করেছন। এই গান নজরুলের নিজের সুরারোপিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত। আমাদের বিপ্লব-বিদ্রোহ, আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে “কারার ওই লৌহ কপাট”। কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তিনি বিদ্রোহী কবি নামে পরিচিত। তার কবিতা আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ। তার কবিতার আসল সুর অক্ষুণ্ণ রাখার দাবি জানানো হয়।
ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের আটকের প্রতিবাদে কাজী নজরুল ইসলাম “কারার ওই লৌহ কপাট” গানটি রচনা করেন। গানটি “ভাঙার গান” বইয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে। প্রকাশের পরপর ১৯২৪ সালের ১১ নভেম্বর ব্রিটিশ সরকার “ভাঙার গান” নিষিদ্ধ করে। পরবর্তীতে স্বাধীন ভারতে “ভাঙার গান” ফের প্রকাশিত হয়। ১৯৪৯ সালে নির্মাতা নির্মল চৌধুরীর “চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন” সিনেমায় গিরিন চক্রবর্তী ও তার সহশিল্পীদের নিয়ে গানটি রেকর্ড করেন সংগীত পরিচালক কালীপদ সেন। এরপর ১৯৬৯-৭০ সালে জহির রায়হানের “জীবন থেকে নেয়া” সিনেমায়ও গানটি ব্যবহার করা হয়।
নোটিশে বলা হয়, “কারার ঐ লৌহ-কবাট” শত বছরের অবিনাশী গান। ব্রিটিশ বিরোধী মানসে লেখা গানটি সব ধরনের অন্যায়, অবিচার ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার। একই গান একটি কাজী নজরুলের সুরে ও আরেকটি “বিকৃত সুরে” থাকলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিভ্রান্ত হবে।
রিটকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির বলেন, “এ আর রহমানের গাওয়া ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানটি অপসারণ করতে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জাতীয় কবির এই অমর কবিতার মূল সুর রক্ষায় জনস্বার্থে রিট করা হয়েছে।”



‘কারার ঐ লৌহকপাট’ গানের রিমেক বানিয়ে বিতর্কে এ আর রহমান
দুই বাংলায় সঙ্গীতানুরাগীদের রোষানলে এ আর রহমান
‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানের স্বত্ব নিয়ে যা বললেন কাজী নজরুলের নাতনি
‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানটির সুরবিকৃতিতে ছায়ানটের ধিক্কার
পিপ্পা’র ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গান অনলাইন থেকে সরাতে আইনি নোটিশ