চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২ সালের নির্বাচন নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। সেবার সভাপতি পদে ইলিয়াস কাঞ্চন ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রাথমিক ভোট গণনায় জায়েদ খান জয়ী হন। কিন্তু প্রকাশিত ফলাফলে অসন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন সাধারণ সম্পাদক পদে পরাজিত প্রার্থী নিপুণ আক্তার।
সেখান থেকে জল গড়ায় আদালতে। শেষমেশ আদালতের রায়ে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসেন এই অভিনেত্রী। বিষয়টি নিয়ে তখন আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে অনেক। তবে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলেননি।
তবে এবার মুখ খুলতে শুরু করেছেন অনেকে। যাদের একজন ২০২২ সালে শিল্পী সমিতির ভোটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করা পীরজাদা হারুন।
২০২২ সালের নির্বাচনে তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। হারুন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “নির্বাচনে নিপুণকে জয়ী দেখাতে অনেক ওপর থেকে এক ক্ষমতাবান রাজনীতিবিদ একের পর এক ফোন করতে থাকেন। তিনি তখন সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ প্রায় সব মন্ত্রণালয়ে সরাসরি প্রভাব খাটাতেন, নিয়ন্ত্রণ করতেন বলা যায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি তাকে সরাসরি ‘না’ বলে দিই। এর আগে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার থাকাকালীন সময় আমাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছিলেন। সে অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানতেন যে আমাকে কেনা যাবে না। এ জন্য আমি বারবার সরকারি চাকরিতে পদবঞ্চিত হয়েছি।”
হারুন বলেন, “সেদিন রাতে একের পর এক ফোনে আমাকে ভয় দেখানো হয় যে তুলে নিয়ে যাবে। পরে একটা জায়গায় যেতে বলেন, যেখানে বড় অঙ্কের টাকা রাখা ছিল। যখন রাজি হলাম না, তখন ফলাফল নিয়ে মামলা করা হলো। সেটা চলে গেল কোর্টে। তখন নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আমাকে বানিয়ে দেওয়া হলো অন্য একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। নানা কাণ্ডে আমাকে ছোট করা হলো, এফডিসিতে নিষিদ্ধ করা হলো।”
শিল্পী সমিতির সেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যুক্ত আরেকজন জানান, এমন আতঙ্ক হবে ভাবলে তিনি দায়িত্ব পালন করতেন না। কারণ, জীবনের হুমকি ছিল।
তিনি বলেন, “আমাদের নির্বাচন কমিশনারদের একের পর এক ভয়ভীতি দেখিয়ে গালিগালাজ করা হয়। বলা হয় যে পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে যাবে। এমন লেভেল থেকে ফোন আসবে, ভাবতেই পারিনি। আমাদের একজনকে সেই সময় নিপুণকে জয়ী করাতে ১৭ বার ফোন করেন শেখ সেলিম সাহেব, তার মতো লোক। এটা আমাদের অবাক করেছিল।”
নিপুণের সঙ্গে শেখ সেলিমের সখ্যতা চোখে পড়ে একাধিকবার। ২০১২ সালে বনানীর অভিজাত এলাকায় নিপুণ গড়ে তোলেন নিজস্ব পারলার। সেটা উদ্বোধন করতে আসেন শেখ সেলিম। সেই থেকেই আলোচনায় আসেন নিপুণ।



