Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

স্বাধীন খসরু: ‘রং ঢং’ মিডিয়া সিন্ডিকেট বিরোধী সিনেমা

‘রং ঢং’ সিনেমা ও আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন স্বাধীন খসরুর

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৪, ১১:৩৮ পিএম

স্বাধীন খসরু, বাংলা টিভি নাটকের দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় নাম। বাংলাদেশের অসংখ্য জনপ্রিয় টিভি নাটক ও সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এই অভিনেতার জনপ্রিয় বেশিরভাগ নাটক রচনা করেছিলেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। এই কথাসাহিত্যিকের “তারা তিনজন” সিরিজে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন স্বাধীন খসরু, ডা. এজাজ ও ফারুক আহমেদ। তাদের জনপ্রিয় নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে “তারা তিনজন”, “তারা তিনজন টি-মাস্টার”, “তারা তিনজন ঝামেলায় আছে”, “তারা তিনজন হে পৃথিবী বিদায়”, “তারা তিনজন ফুচকা বিলাস”, “ভাইরাস”, “আমরা জেগে আছি”, “আবারো তিনজন”, “আমরা তিনজন”, “উড়ে যায় বকপক্ষী”, “পক্ষিরাজ”।

ডা. এজাজ ও ফারুক আহমেদ অভিনয় চালিয়ে গেলেও দীর্ঘদিন পর্দায় অনুপস্থিত ছিলেন স্বাধীন খসরু। সম্প্রতি আহসান সারোয়ার পরিচালিত “রং ঢং” সিনেমার মাধ্যমে আবারও পর্দায় ফিরেছেন তিনি। “রং ঢং” সিনেমা ও আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের তানভীর হাসানের সঙ্গে কথা বলেছেন স্বাধীন খসরুর।

ঢাকা ট্রিবিউন: “রং ঢং” সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

স্বাধীন খসরু: দীর্ঘসময় ধরে সিনেমার শুটিং চলেছে। এই সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি আমি কাস্টিং পরিচালক হিসেবে কাজ করেছি। দীর্ঘসময় ধরে এই সিনেমার শুটিং হয়েছে যার ফলে একটু তিক্ততা ও বিরক্ততা রয়েছে। থেমে থেমে শুটিং হয়েছে। এই সিনেমায় আমার বাস্তবের বয়সের থেকে একটু বেশি বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে অভিনয় করতে হয়েছে। যার জন্য চুল সাদা করাসহ বেশকিছু কসটিউম ব্যবহার করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞাতা খুবই ভালো ছিল।

স্বাধীন খসরু/ফেসবুক

আপনার চরিত্রটি কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?

চরিত্রটা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে খুব একটা সমস্যা হয়নি। যেহেতু আমি থিয়েটার ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষ, লন্ডনে পড়াশোনাও করেছি থিয়েটার নিয়ে। ওই অভিজ্ঞাতা আমাকে খুব সাহায্য করেছে। যেহেতু আগে থেকেই চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয়ের একটা দক্ষতা ছিল তাই খুব বেশি একটা সমস্যা হয়নি।

এই সিনেমার গল্পের বিষয়বস্তু কী?

“রং ঢং” একটি গল্প নির্ভর একটি সিনেমা। এর কাহিনি হলো মিডিয়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। সব জায়গায় একটা ডার্ক সাইড থাকে, আমাদের মিডিয়াতেও রয়েছে। এই সিনেমা এই ডার্ক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। যারা সিনেমাটি দেখবেন বা দেখেছেন তারা বুঝবেন- আমাদের মিডিয়া জগতে দালাল প্রকৃতির কিছু লোক থাকে। যাদের কারণে অসহায় মানুষ ভুক্তভোগী হয়ে থাকেন। মূলত আমাদের এই সিনেমা মিডিয়ার এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

সিনেমা সম্পর্কে দর্শকদের থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন?

যারা সিনেমাটি দেখেছেন তারা সবাই খুবই তৃপ্ত। এই সিনেমা সাধারণ দর্শকদের জন্য নয়। যেমন নায়ক নায়িকা থাকবে ভিলেন থাকবে, এমন নয়। অনেকটা সত্য ঘটনা নির্ভর সিনেমা। এখানে ওই অর্থে কোনো নায়ক নায়িকা নেই। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন তারেক আনামসহ অনেক দক্ষ অভিনেতা। আমি যতটুকু দর্শকদের প্রতিক্রিয়া শুনেছি তাতে তারা খুবই পজিটিভ। তারা আরও এই রকম সিনেমা প্রত্যাশা করে বলে জানিয়েছেন।

ফারুক আহমেদ, ড. এজাজ ও স্বাধীন খসরু/সংগৃহীত

দীর্ঘদিন পর আপনি এজাজ ভাই ও ফারুক ভাই পর্দায় একসঙ্গে। বিষয়টি নিয়ে দর্শক মহল থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

অনেকদিন পর এজাজ ভাই, ফারুক ভাই এবং আমি একসঙ্গে তাও আবার বড়পর্দায়। দর্শক এই বিষয়টি খুব মজা পেয়েছে। এমনকি আপনারা দেখবেন বাংলাদেশের প্রথম সারির পত্রিকাগুলো তাদের সংবাদে শিরোনাম করেছে “দীর্ঘদিন পর ফিরলেন তারা তিনজন”। যদিও হুমায়ুন আহমেদের তার তিনজনের আদলে এই গল্প না। আমরা তিনজন এই সিনেমায় আলাদা আলাদা চরিত্রে অভিনয় করেছি। তবে যারা “তারা তিনজন” সিরিজের ভক্ত তারা হয়ত আমাদের সেই ভাবে পাবেন না সিনেমায় তবে আপনারা হতাশ হবেন না।

আগামীতে দর্শক পর্দায় আপনাকে নিয়মিত দেখতে পাবে কী?

ইচ্ছা আছে আগামীতে নিয়মিত অভিনয় করার। দেশের বাইরে থাকায় নিয়মিত অভিনয় করতে পারছি না। একজন শিল্পী মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার শিল্পকর্ম চালিয়ে যেতে চান। সেটা তিনি যেখানেই থাকুন না কেন। সৃজনশীল মানুষ তাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে চায়। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। আমি কাজ করে যেতে চাই। আগামীতে আমার আরও দুটি সিনেমা রয়েছে। একটি হলো “৫৭০” আরেকটি হলো “আমরা একটি সিনেমা বানাব”। লোকজন তো প্রতিনিয়ত জানতে চায় আমার নতুন কি আসছে, তারা তিনজনকে এক সঙ্গে দেখতে চায়। দর্শক আমাকে মিস করে আমিও তাদের মিস করি। কতটা যে মিস করি তা আপনাদের বুঝাতে পারব না।

   

About

Popular Links

x