Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মিটফোর্ডের ঘটনায় বাঁধন: আমরা কী নরকে বাস করছি?

পরপর তিনটি পোস্ট দিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৫, ০৩:৩৫ পিএম

রাজধানীর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের সামনে ভাঙারি পণ্যের ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগকে (৩৯) নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে পরপর তিনটি পোস্ট দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ভিডিও ও ছবি দেখে তার মানসিক অবস্থা ভেঙে পড়েছে।

বাঁধন লিখেছেন, “আমার বাবা-মা আমার নিরাপত্তা নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন। আর আমার মেয়ে- সে শুধু আমাকেই পেয়েছে। আমি-ই তার পুরো পৃথিবী। কিন্তু আমি কীভাবে তাকে নিরাপদ রাখি, এমন এক দেশে? আমরা আসলে কী ধরনের দেশে বাস করছি? এখানে নেই কোনো নিরাপত্তা। নেই মন শান্ত করার সুযোগ। আমরা ভেবেছিলাম, সময় বদলাবে। স্বপ্ন দেখেছিলাম, এক নিরাপদ, সুন্দর ভবিষ্যতের। নতুন সরকার এল, আমরা বিশ্বাস করেছিলাম, আমরা অপেক্ষা করেছি, কিন্তু এখন যা দেখছি, তা ভয়াবহ। আর যদি কোনো নির্বাচিত সরকার পরিবর্তনের সাহস না রাখে, কোনো ভবিষ্যৎ দেখাতে না পারে- তাহলে এর মানে কী? আমি ভীত। আমি ক্ষুব্ধ। আর সবচেয়ে বেশি যেটা, তা হলো আমি ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছি।”

ভিডিওতে দেখা গেছে, মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনের ব্যস্ত সড়কে লাল চাঁদ সোহাগকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তাকে ইট-পাথরের টুকরা দিয়ে আঘাত করা হয়, মাথা ও শরীর থেঁতলে দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে বিবস্ত্র করে হত্যাকারীরা।

ওই দৃশ্য দেখে বাঁধন বলেন, “একজন মানুষকে এভাবে মেরে ফেলছে- আর বাকিরা দাঁড়িয়ে শুধু দেখলো! এটা কীভাবে সম্ভব? আমরা আসলে কোন দেশে বাস করছি? মানুষ দেখল, কিছুই করল না। এটাই সবচেয়ে ভয়ের বিষয়। আমি আর কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাই না। আর কেউ কি এটা অনুভব করছে? মনে হয় না, যেন আমরা নরকে বাস করছি? আর সরকার? নীরব। সব সময়ের মতোই। তারা কোথায়? তারা কথা বলে না কেন? তারা কিছু করে না কেন? কীভাবে একজন মানুষ এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে?”

নিজের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাঁধন। তিনি লিখেছেন, “এই দেশে আমি কি আদৌ নিরাপদ? আমি কি আমার মনের কথা বলার অধিকার রাখি? নাকি শুধু সত্য বলার অপরাধে আমিই হব পরবর্তী শিকার?”

মামলার তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড। নিহত লাল চাঁদ একসময় যুবদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ঘটনায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার কথাও জানা গেছে।

   

About

Popular Links

x