Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জেনে নিন আপনার শিশুকে কখন কোন টিকা দেবেন

রোগ প্রতিরোধে শিশুর ৬ মাস থেকে ১৫ মাসের মাঝে ১০টি টিকা প্রদান করা হয়

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

একটি সুস্থ ও সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিশুর নির্দিষ্ট সময়মতো টিকাদান বা ইপিআই কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই। জন্মের পর থেকে নির্ধারিত বয়স পর্যন্ত টিকা নেওয়া শিশুকে বিভিন্ন ভয়াবহ সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে এবং তার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তোলে।

টিকাদানের সময়সূচি

বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) অনুযায়ী, জন্মের পর থেকে ১৫ মাস বয়সের মধ্যে শিশুকে মোট ১০টি রোগ প্রতিরোধের জন্য টিকা দেওয়া হয়।

জন্মের পর থেকেই যক্ষ্মা প্রতিরোধে বিসিজি টিকা দেওয়া হয়। ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে, পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা (ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টঙ্কার, হুপিং কাশি, হেপাটাইটিস বি, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জি) এবং ওপিভি (পোলিও) ও পিসিভি (নিউমোনিয়া) দেওয়া হয়। এছাড়াও ৬ ও ১৪ সপ্তাহ বয়সে ইনজেকটেবল পোলিও (এফআইপিভি) দেওয়া হয়। ৯ ও ১৫ মাসে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে দুই ডোজ এমআর টিকা দেওয়া হয়ে থাকে।

এছাড়া, টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধের জন্য ৯ মাস বয়সে এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) দেওয়া হয়। জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা দেওয়া হয়। মূলত পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রী বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকা ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কন্যাশিশুদের জন্য এই টিকা রয়েছে।

তাছাড়াও বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানসারের মৃত্যুহার সবচাইতে বেশি। সময়মতো এই টিকা নেওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় শতভাগ কমানো সম্ভব। প্রজননযোগ্য বয়সী নারীদের (১৫-৪৯ বছর) ধনুষ্টঙ্কার বা টিটেনাস থেকে সুরক্ষার জন্য ৫ ডোজ টিকা দেওয়া হয়। এটি মা ও ভবিষ্যৎ সন্তানকে  প্রাণঘাতী ধনুষ্টঙ্কার থেকে রক্ষা করে।

ডোজ মিস হলে করণীয় ও ঝুঁকি

যদি কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে টিকা নেওয়া না হয়ে থাকে তাহলে হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। দ্রুত আশেপাশের টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। ডোজ মিস হলে শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ গড়ে উঠতে পারে না এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে থাকে।

কিছু কিছু টিকার কার্যকারিতা সময়ের সঙ্গে হ্রাস পেতে পারে। মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরায় শক্তিশালী করার জন্য বুস্টার ডোজ নেওয়া জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, ধনুষ্টঙ্কার বা ডিপথেরিয়ার ক্ষেত্রে বুস্টার ডোজ মনবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে।

   

About

Popular Links

x