চোখ বন্ধ করলে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েন এমন অনেকেই আছেন। আবার অনেকের কাছে ঘুম যেন পরম আরাধ্য কোনো বিষয়। অনেক চেষ্টা করেও তাদের চোখে সহসা ধরা দেয় না ঘুম। এরকম বিপদ থেকে উদ্ধারে একটি কার্যকরী উপায় হচ্ছে “মিলিটারি স্লিপ মেথড” নামে এক অভিনব পদ্ধতি!
১৯৪০ এর দশকে এই পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সদস্যদের জন্য! এটি অনুসরণ করে ঘুমিয়ে নেওয়ার অভ্যাস করতেন বলেই এর নাম “মিলিটারি স্লিপ মেথড”। মূলত অস্থির চিন্তাযুক্ত মনকে শিথিল ও শান্ত করাই এর উদ্দেশ্য! যারমধ্য দিয়ে সরাসরি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে মস্তিষ্কে সব কিছু নিরাপদ থাকার বার্তা পাঠানো হয়।
চলুন জেনে নেওয়া যাক এই পদ্ধতির আদ্যোপান্তো!
প্রথমত, কপালের চামড়া একেবারে আলগা করে নিতে হবে। চোখের চারপাশের পেশিগুলিকে পুরোপুরি শিথিল হতে দিন। ভাবতে হবে যে, আপনার চোখ দুটো ভিতরের দিকে তলিয়ে যাচ্ছে। এরপর চোয়ালের ওপর থেকে চাপ সরিয়ে নিন এবং জিভটিকে মুখের ভিতর আলগাভাবে ছড়িয়ে রাখুন। কারণ, মুখের ছোট ছোট অনেক পেশি থাকে যা মানসিক চাপে আড়ষ্ট থাকে। প্রতিটি পেশি শিথিল করাই মূলত মিলিটারি স্লিপ মেথডের প্রথম ধাপ।
দ্বিতীয় ধাপে, এবার কাঁধ দুটোকে বিছানার দিকে যথাসম্ভব ঝুঁকিয়ে দিন। প্রথমে ডান বা বাঁ, যে হাতটি বেশি সচল তার উপরের অংশ, এরপর কনুই থেকে কব্জি, সব শেষে হাতের তালু ও আঙুলগুলি পুরোপুরি শিথিল করুন। একই পদ্ধতিতে অন্য হাতটি শিথিল করতে হবে।এই শিথিলতাই মনের যত অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তার শারীরিক লক্ষণগুলি কমিয়ে আনে।
তৃতীয় ধাপ, বড় করে নিঃশ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে তা ছেড়ে দিতে হবে। এসময় সমস্ত মনোযোগ ফুসফুস এবং বক্ষের দিকে থাকবে। নিঃশ্বাস ছাড়তে যেয়ে যাতে মনেহয় বিছানার দিকে তলিয়ে যাচ্ছে বক্ষের অংশ।
চতুর্থ ধাপ, এবার ধীরে ধীরে পায়ের দিকে নজর দিতে হবে। ঊরুর অংশের পেশি শিথিল করে ধীরে ধীরে পায়ের আঙুলের দিকে যেতে হবে।
পঞ্চম ধাপ, দেহের উপর যখন নিয়ন্ত্রণ এলে মনকেও সহজে শান্ত করা যাবে। একটানা ১০ সেকেন্ড কিছু না ভেবে মাথাকে একেবারে ফাঁকা করে দিতে হবে।
এরপরও যদি কাজ না হয়, সেক্ষেত্রে মনোরম কোনো দৃশ্যের কল্পনা করতে হবে। যেমন দৃশ্য আপনার পছন্দ, তা হতে পারে আপনার নিজের ঘর, সমুদ্র, পাহাড়, নদী অথবা হারিয়ে যেতে হবে সবুজ বনে।



