করোনাভাইরাস মহামারির ব্যাপক বিস্তারের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। দীর্ঘ দুই বছর পর যখন বিশ্বের অর্থনীতি ধীরে ধীরে লোকসান কাটিয়ে উঠতে শুরু করে, তখন আবার শুরু হয় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। এতে বিশ্বব্যাপী মানুষের জনজীবনে আবারও ব্যাহত হতে শুরু করে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ যখন তাদের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে সংগ্রাম করছে, তখন “১০ টাকার খুশি”-এর মতো কিছু উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।
ঢাকা ট্রিবিউনএখানে জিনিসপত্রের দাম অন্যান্য দোকানের মতো নয়। এখানে ১০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ব্লেজার থেকে শুরু করে রান্নাঘরের জিনিসপত্র, খেলনা, বই ইত্যাদি পাওয়া যায়। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় অবস্থিত এই দোকানটি সপ্তাহে একদিন (বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত) খোলা থাকে।
করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর ২০২০ সালে এই উদ্যোগের যাত্রা শুরু সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন (এসবিএফ) নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে মুদি সরবরাহ করতাম। সেখান থেকেই এই ধারণাটি আসে। তখন আমাদের কাছে মনে হয়, মানুষের খাদ্যসামগ্রী ছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দরকার আছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পেজ থেকে এসব অনুদানের জিনিসপত্র সংগ্রহ করা হয়। মানুষ কখনও এমন কিছু দান করে, যা তিনি একবারও ব্যবহার করেননি। আর এসব জিনিস তাদের আর প্রয়োজনও হবে না। কিন্তু এই দোকানে সবকিছুর মূল্য রয়েছে, এখানে সবকিছুই অন্যের কাজে লাগতে পারে।
এখানে ক্ষতিগ্রস্ত বা ভাঙা প্লাস্টিকের তৈরি জিনিসও পাওয়া যায়। এমনকি ছেঁড়া কাপড়কেও লুসনিতে পরিণত করে ব্যবহার করা হয়। এখানে মাঝেমধ্যে মানুষ ল্যাপটপও দান করেন। যা পরবর্তীতে শিশুদের প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়।
ঢাকায় অনুদান সংগ্রহের জন্য কাজ করছেন পাঁচজনের একটি দল। তারা কুরিয়ারের মাধ্যমে রাজধানীর বাইরে থেকেও অনুদান সংগ্রহ করেন। এসব অনুদান সংগ্রহের পর তারা বাছাই ও পরিষ্কার করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেন।
ময়ূখ ইসলামমুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “১০ টাকার খুশির প্রথম দিকের সময়গুলো অন্যরকম ছিল। প্রথমে আমরা ভ্যানে করে ঘুরে বেড়াতাম বা বস্তিতে গিয়ে মেলা বসিয়ে পণ্য বিক্রি করতাম। তারপর প্রায় তিন মাস আগে আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে, মোহাম্মদপুরে একটি দোকান থাকবে।”
পণ্যের মূল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা পণ্যগুলো সর্বনিম্ন মূল্যে দেওয়ার চেষ্টা করি, কারণ বিনামূল্যে পাওয়া জিনিসের তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এছাড়াও এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যারা অভাবী কিন্তু বিনামূল্যে কোনোকিছু গ্রহণ করতে চান না।”
নুরুল নামের একজন ক্রেতা দোকানে কাপড় কেনার জন্য ঘাঁটাঘাঁটি করছেন। তিনি জানান, দোকানে আসার আগ পর্যন্ত তিনি নিশ্চিত ছিলেন না এখানে সবকিছুর দাম ১০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।
ঢাকা ট্রিবিউননিজামুল ইসলাম নামের আরেক ক্রেতা দোকান থেকে একটি ব্লেজার কিনেছেন। তিনি বলেন, “এটার দাম কতো হতে পারে তা আমার ধারণা ছিল না। দোকানে এসে দেখলাম ন্যূনতম দামে জিনিসপত্র কেনা যায়। তাই আমি ১০০ টাকা দিয়ে ব্লেজারটা কিনেছি।”
কৌশিক নামে এক কিশোর দোকান থেকে ২০ টাকা দিয়ে দুটি বই কিনেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়ক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমরা ঢাকার বিভিন্ন বস্তিতে দোকান সম্প্রসারণ করতে চাই এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি ছড়িয়ে দিতে চাই। যদিও আমরা এখন সপ্তাহে সাত দিন চালানোর মতো পণ্য পাচ্ছি না।”
ময়ূখ ইসলামবিভিন্ন সময় সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন (এসবিএফ) ইভেন্টের আয়োজন করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে- “১০ টাকার ঈদ বাজার”, “১০ টাকায় ইফতার বিতরণ”, “১০ টাকায় সাহিত্যের বিতরণ”সহ আরও বেশকিছু। যেখানে মানুষের জন্য খাবার এবং কাপড়ের সরবরাহ করা হয়েছে।


