Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তাদের বাঁশির সুরে মিরপুরের রাতগুলো হয়ে ওঠে মায়াবী

সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নেমেছে। কুষ্টিয়ার মফস্বল শহর মিরপুর বাজারে তখন সুনসান নীরবতা। প্রায় সবগুলো দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। একটি চায়ের দোকানের আলো তখনও জানান দেয় মানুষের উপস্থিতি। সেখান থেকে ভেসে আসা বাঁশির সুর রাতের আঁধারকে করে তুলছে আরও মায়াবী

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৩, ০৩:০৯ পিএম

সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নেমেছে। কুষ্টিয়ার মফস্বল শহর মিরপুর বাজারে তখন সুনসান নীরবতা। প্রায় সবগুলো দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। একটি চায়ের দোকানের আলো তখনও জানান দেয় মানুষের উপস্থিতি। সেখান থেকে ভেসে আসা বাঁশির সুর রাতের আঁধারকে করে তুলছে আরও মায়াবী।

দোকানটির কাছে যেতেই দেখা মিলল বংশীবাদকের। কাঠের বেঞ্চে বসে বাঁশিতে তুলছেন একের পর এক জনপ্রিয় গানের সুর। কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ্য মানুষকে পাওয়া গেল তার বাঁশির শ্রোতা হিসেবে। মন্ত্রমুগ্ধের মতো তারা শুনছেন বাঁশি। একটু পরেই বংশীবাদকের সঙ্গে বাঁশি ধরলেন স্বয়ং চা দোকানি। 

সে এক ভিন্ন আবেশ! দু’জনের বাঁশি রাতের আঁধার ছাপিয়ে ছড়াচ্ছে সুরের মূর্ছনা।

মিরপুর ডাকবাংলো সড়কের পাশে চায়ের দোকান করেন মনিরুল ইসলাম মনি। ছোটবেলা থেকেই শখের বশে বাঁশি বাজান। প্রায় প্রতি রাতেই দোকানের কাজবাজ শেষ করে তিনি বাঁশির চর্চা করেন। আধুনিক গান, লালনগীতি, ভাওয়াইয়াসহ সব ধরনের গানের সঙ্গে সুর তুলতে পারদর্শী মনি। বাঁশি ছাড়াও মনি মুখ দিয়েও সুর তোলেন। 

মনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই শখের বশে বাঁশি বাজানো শুরু করি। অবসর পেলেই বাঁশি আমার সঙ্গী হয়ে যায়। বাঁশিতে ফুঁ দিলেই যেন আত্মা শীতল হয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “প্রায় পাঁচ বছর ধরে চায়ের দোকান করি। এই দোকানের আয় দিয়েই সংসারের খরচ চলে।”

মনির সঙ্গী বংশীবাদক আব্দুস সামাদ পেশায় কৃষক। বাঁশির সঙ্গে সামাদেরও নিবিড় সখ্য। শখের বসে অনেকদিন ধরেই বাঁশি বাজান তিনি।

চল্লিশোর্ধ্ব সামাদ বলেন, ২৫ বছর বয়স থেকেই বাঁশির সঙ্গে সম্পর্ক। মাঝে কিছুদিন বাদ দিয়েছিলাম। নতুন করে আবার শুরু করেছি। 

“কাজবাজ শেষে রাতের দিকে সময় পেলেই বাঁশি বাজাই। লালনগীতি, পুরনো দিনের গান, আধুনিক গানসহ টুকটাক প্রায় সব গানেই সুর তুলতে পারি।”

   

About

Popular Links

x