Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রাস্তার নাম ‘অক্সিজেন রোড’

সড়কটিকে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে উপজেলা প্রশাসনের। কর্তৃপক্ষ মনে করে, এই নামকরণ থেকে মানুষ গাছের গুরুত্ব বুঝতে পারবে এবং বৃক্ষ রোপণে উৎসাহিত হবে

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৩, ০৬:১৪ পিএম

গ্রামের ধানক্ষেতের মাঝখানে পিচ ঢালা সরু রাস্তা। নিয়মিত এলাকাবাসীর চলাচল। বাংলাদেশের বহু গ্রামেরই সাধারণ দৃশ্য এমন। হঠাৎ করেই একটি রাস্তা আলাদা হয়ে উঠেছে। রাস্তার দুই পাড়ে রোপণ করা হয়েছে প্রায় পাঁচশ গাছ। আর রাস্তার নাম দেওয়া হয়েছে “অক্সিজেন রোড”। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে যাতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গাছ রোপণের গুরুত্ব বুঝবে। বিষয়টি সাড়া ফেলেছে স্থানীয়দের মাঝেও।

রাস্তাটি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের কোলকন্দ গ্রামে। সেখানে গত ২৩ আগস্ট উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৩০ প্রজাতির ফুল, ফল ও ওষুধি মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক গাছ রোপণ করা হয়েছে।

গ্রামের প্রায় ২৫০ জন বাসিন্দা একেকজন দুটি করে গাছ রোপণ করে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। এছাড়া গাছের চারার নিরাপদ বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে প্রতিটি চারা খুঁটি ও নেট দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। গাছের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার জন্যও এলাকাবাসীর মাধ্যমে দল গড়ে দেওয়া হয়েছে।

গাছগুলোর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দেখভালের কাজটি করছে উপজেলা প্রশাসন/সৌজন্য ছবি

গাছ রোপণের কাজের পুরোটা জুড়ে উপস্থিত ছিলেন গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদ তামান্না ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার সাহা।

এসিল্যান্ড নয়ন কুমার সাহা বলেন, “সরকার পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার জন্য বৃক্ষ রোপণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাড়ির আনাচে-কানাচে শাক সবজি ও পতিত জমিতে গাছ রোপণ করতে বলেছেন। আমি সে লক্ষ্যেই আমার ঊর্ধ্বতন  কর্তৃপক্ষের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় এই কাজ করেছি।”

ইউএনও নাহিদ তামান্না বলেন, “মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন অক্সিজেন। যেটা আমরা গাছ থেকে পাই। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় গাছের বিকল্প নেই। এজন্য এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করে রাস্তায় গাছ রোপণের কাজ শুরু করি। রাস্তাটির নাম দেওয়া হয় ‘অক্সিজেন রোড’। এ নাম দেওয়ার কারণেই মানুষ গাছের গুরুত্ব বুঝতে পারবে ও বৃক্ষ রোপণে উৎসাহিত হবে।”

এদিকে গাছ রোপণের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকাবাসী। গ্রামের বাসিন্দা ও বগুড়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী রায়হান কবীর স্বপন বলেন, “এই সড়কে কোনো গাছ না থাকায় রোদে একটু বিশ্রামের সুযোগ নেই। বিশ্বজুড়ে পরিবেশের যে বিরূপ প্রভাব সেটির ভুক্তভোগী আমরাও। প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। উপজেলা প্রশাসনকে এ কাজে গ্রামের সবাই সহায়তা করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কাজ করে। এজন্য আমরা সবাই এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি।”

About

Popular Links