Wednesday, July 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘ডাউন সিনড্রোম’ থাকা মানুষেরা চালান এই ক্যাফেটি

এই প্রকল্পটা শুরুতে তেমন একটা সাড়া ফেলতে পারেনি। প্রথম কয়েক মাস কোনো ক্রেতা পাচ্ছিল না ক্যাফেটি। সামাজিক মাধ্যমে ক্যাম্পেইনের পর দৃশ্যপট ক্রমেই পাল্টে যেতে থাকে

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৫:২৩ পিএম

বসনিয়ার একটি ক্যাফেতে “ডাউন সিনড্রোম” থাকা মানুষেরা কাজ করেন৷ “ড্রাগনস হার্ট ক্লাব” নামের এই ক্যাফেটি শুরুতে মুখ থুবড়ে পড়ার অবস্থায় গেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সফল ক্যাম্পেইনের কারণে এটি এখন বেশ জমজমাট।

“ডাউন সিনড্রোম” জন্মগত জেনেটিক ত্রুটি। “ডাউন সিনড্রোম” শিশুর ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়; যেমন মাংসপেশির শিথিলতা, কম উচ্চতা, চোখের কোণা উপরের দিকে ওঠানো, চ্যাপ্টা নাক, ছোটো কান, হাতের তালুতে একটি মাত্র রেখা, জিব বের হয়ে থাকা ইত্যাদি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, বিশ্বে প্রতি ৮০০ শিশুর মধ্যে একটি ডাউন সিনড্রোম শিশু জন্ম নেয়। সারাবিশ্বে ডাউন সিনড্রোম মানুষ রয়েছে প্রায় ৭০ লাখ।

বসনিয়ার ক্যাফেটিতে কাজ করেন সাশা সুনিয়াক। সাশা বলেন, “আমার খুব ভালো লাগে, আনন্দ হয়৷ এখানে কাজ করতে ভালোবাসি, আমার সবসময় ভালো লাগে! কোনো বিশ্রাম না নিয়ে আমি ২৪ ঘণ্টাই কাজ করতে পারবো।”

তার সহকর্মী বরিস কুসুমোভিচ কথা বলতে পারেন না, কিন্তু তাতে সমস্যা নেই। তিনি এমনকি, ক্যাফেতে একটি বিছানা রাখতে চেয়েছিলেন, যেন রাতটা সেখানেই কাটাতে পারেন।

“ড্রাগনস হার্ট ক্লাব”র ওমর ইসোভিচ বলেন, “এখানে যারা কাজ করেন তাদের চেহারার দিকে তাকালে, তাদের পরিবারের দিকে তাকালে আপনি বুঝবেন যে, এই ক্যাফে তাদের জন্য দ্বিতীয় বাড়ি হয়ে উঠেছে। তাদের মা-বাবারা বলছেন, তাদের সন্তানেরা আগে কখনো এতটা আনন্দে ছিলেন না।”

এই প্রকল্পটা শুরুতে তেমন একটা সাড়া ফেলতে পারেনি। প্রথম কয়েক মাস কোনো ক্রেতা পাচ্ছিল না ক্যাফেটি। পাশের ক্যাফেটি ছিল জমজমাট। তবে দৃশ্যপট ক্রমেই পাল্টে যেতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাম্পেইন করার পর এখন এটি সব সময়ই লোকে ভরপুর থাকে। দেশটির অন্য শহরে ক্যাফেটির শাখা খোলার চিন্তা করা হচ্ছে।

ক্যাফেটিতে শুরু থেকেই যাতায়াত করতেন এডিমা এফেনডিচ-জিনিচ। এমনকি যখন কেউই সেখানে ঢুকতেন না তখনো তিনি সেখানে যেতেন। কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি ক্যাফেটিতে গিয়েছিলেন। এ সময় ক্যাফেতে কেউই ছিলেন না। তিনি একাই ছিলেন। ক্যাফেতে কাজ করা সাশা ছিলেন এডিমার পূর্বপরিচতি। ওইদিন ক্যাফেতে যাওয়ার পর এর “ড্রাগনস হার্ট ক্লাব”র ওমর ইসোভিচ তার ছবি তুলেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে এডিমা এফেনডিচ-জিনিচ বলেন, “আমি জানতাম না, ওমর ছবি তুলেছিলেন। একদিন উনি আমাকে বলছিলেন যে, উনি ক্লাবটা এ মাসের শেষে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেবেন। আমি বলেছিলাম, এমন করতে হবে না। তিনি বলেছিলেন, এভাবে চালানো সম্ভব নয়।”

ওমর ইসোভিচ বলেন, “বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর সব বদলে যায়! প্রথমে স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, তারপর জাতীয় গণমাধ্যমে। হঠাৎ করেই সকাল, সন্ধ্যা সবসময় আমরা ক্রেতা পাওয়া শুরু করি। প্রথম দুই, তিন সপ্তাহে টেবিল পাওয়া সহজ ছিল না।”

এরপর থেকে খুব ভালো চলছে ক্যাফেটি। ক্রেতারাও প্রশংসা করছেন৷ এক ক্রেতা বলেন, “আমি আপনাকে বলছি, এটা অন্যতম সেরা ক্যাফে! খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন৷ আর সার্ভিসও উঁচুমানের।”

আরেকজন জানান, “প্রথমে খুব অবাক হয়েছিলাম৷ আশা করিনি, কিন্তু তাতে কী! আমার মনে হয়, তারা আমাকে ও অন্য অতিথিদের অন্যান্য জায়গার চেয়ে একটু বেশি সম্মান ও বন্ধুত্বের সঙ্গে সেবা দিয়েছেন।”

   

About

Popular Links

x