Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি, ‘ফিলস লাইক’ কেন ৪৬?

শনিবার দুপুরে ঢাকায় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলেও অনুভূত তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩৩ এএম

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। যা অব্যাহত থাকতে পারে জানিয়ে দেশজুড়ে চতুর্থ দফায় হিট অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। কোনো বিশাল এলাকাজুড়ে যখন তাপপ্রবাহ হয়, তখন এরকম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

তীব্র গরমে জনজীবনে অস্বস্তি পৌঁছেছে চরমে। এ অবস্থায় দেশজুড়ে তাপমাত্রা আরও বাড়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভারি বৃষ্টিপাত ছাড়া গরমের তীব্রতা কমার সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে দেশজুড়ে চলমান এই তাপপ্রবাহের মধ্যে মানুষ কখন কোথায় কত ডিগ্রি তাপমাত্রা চলছে তা জানার চেষ্টা করছেন। এ জন্য অনেকেই সার্চ ইঞ্জিন গুগল থেকে তাপমাত্রা দেখে নিচ্ছেন। তবে গুগলে তাপমাত্রা দেখার ক্ষেত্রে মানুষের মনে জন্মাচ্ছে আরেক প্রশ্ন।

গুগলে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার তাপমাত্রা জানতে চাইলে সবার ওপরে সেটি দেখায়। তবে তাপমাত্রার ঠিক নিচে ছোট করে লেখা থাকে “ফিলস লাইক”। সেখানে দেওয়া থাকে আরেক তাপমাত্রা। এই যেমন শনিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ২টায় গুগলে সার্চ দিয়ে ঢাকার তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস দেখালেও “ফিলস লাইক” তাপমাত্রা ছিল ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, “ফিলস লাইক” তাপমাত্রা হলো নির্দিষ্ট এলাকার অনুভূত তাপমাত্রার পরিমাপ। অর্থাৎ কোনো এলাকার তাপমাত্রা যেমনই হোক না কেন, পারিপার্শ্বিক আরও বেশকিছু প্রভাবকের কারণে মানব শরীরে তাপমাত্রা বেশি অনুভূত হতে পারে; এই অনুভূত তাপমাত্রাকেই বলা হয় ফিলস লাইক।

আরেকটু খোলাসা করে বললে, পৃথিবীতে সূর্য রশ্মি আসার পর যে তাপমাত্রাটা থাকে, সেটাই ভূপৃষ্ঠের মূল তাপমাত্রা। আর এই তাপমাত্রা যখন ভূমি থেকে বিকরিত হয়ে মানব শরীরে অনুভূত হয়, সেটাই “ফিলস লাইক” বা অনুভূত তাপমাত্রা।

ফিলস লাইক তাপমাত্রাকে বলা হয় হিট ইনডেক্স বা তাপ সূচক। কোনো এলাকার সম্ভাব্য তাপমাত্রার পূর্বাভাস, ওই এলাকার আর্দ্রতা ও হাওয়ার গতিবেগ মেপে ফিলস লাইক নির্ধারণ করা হয়। ভূমি থেকে পাঁচ ফুট উপরের হাওয়ার গতি মেপে ফিলস লাইক পরিমাপ করা হয়।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘাম বেশি হয়। আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে ঘাম বাষ্পের সঙ্গে মিশে যেতে সময় বেশি লাগে। শরীর ঠান্ডা হতে না পারায় গরম বেশি অনুভূত হয়। আবার বাতাসের উষ্ণতা যা-ই থাক না কেন, প্রবাহ বেশি থাকলে, অর্থাৎ হাওয়া বইলে তাপমাত্রা কম অনুভূত হয়। সেক্ষেত্রেও প্রভাব পড়ে গরমের অনুভূতির ওপর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব এলাকায় যানবাহন, কলকারখানা এবং ভবনের পরিমান বেশি সেখানে মূল তাপমাত্রার চেয়ে অনুভূত তাপমাত্রা বেশি থাকে। আর যেসব এলাকায় গাছপালা ও জলাধার বেশি, সেসব এলাকায় মূল তাপমাত্রা ও অনুভূত তাপমাত্রার ব্যবধান কম।

গরমের সময়ে এই ফিলস লাইক বা অনুভূত তাপমাত্রা যেমন বেশি থাকে, শীতের সময় ঠিক এর বিপরীত। অর্থাৎ, শীতের সময় তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও তার “ফিলস লাইক” ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসও হতে পারে। অর্থাৎ, ওই এলাকার মানুষ ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো ঠান্ডা অনুভব করছেন।

About

Popular Links