নিজের সৌন্দর্য ধরে রাখতে আমাদের কত কিছুই না করতে হয়! অনেকে এর জন্য খাবারের পাশাপাশি প্রতিদিন জিমে যাওয়া, ডায়েট করা, চিকিৎসকের কাছে যাওয়াসহ বিভিন্ন কাজে অনেক খরচ করে থাকেন। তাই ওজন কমার পাশাপাশি ত্বকের তারুণ্য বৃদ্ধিতে গ্রিন ডায়েট খুবই কার্যকরী। গ্রিন ডায়েট মেনে চলার মাধ্যমে অল্প দিনের মধ্যেই এর ফলাফল পাওয়া যায়। তাই চলু্ন গ্রিন ডায়েট সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-
গ্রিন ডায়েট কী
ত্বকের যত্নে ও ওজন ঠিক রাখতে অনেকে অনেক ধরনের ডায়েট করে থাকে। অনেকে আমিষ জাতীয় খাবার বাদ দিয়ে শুধু সবুজ শাকসবজি খেয়ে থাকে। এতে ত্বকের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। এ সবুজ শাকসবজির ডায়েট ই মূলত গ্রিন ডায়েট। সব ধরনের শাকসবজি, ফলমূল, বিভিন্ন জাতের ডাল, বিভিন্ন ধরনের বাদাম এ ডায়েটের অন্তর্ভুক্ত। এ ডায়েট মেনেচলাকালীন ব্যক্তির বয়স, ওজন ও উচ্চতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। গ্রিন ডায়েটে সাধারণত কোনো ধরনের প্রাণিজ উপাদান থাকে না।
খাবার তালিকা
শাকসবজি দিয়ে তৈরি সকল রেসিপি এ ডায়েট চলাকালীন খাওয়া যাবে। এছাড়াও স্যুপ, বিভিন্ন ধরনের সালাদ, নিরামিষ, নারকেলের দুধ, বিভিন্ন ধরনের সবজি দিয়ে ভর্তা, ডালের বড়া, সকল ধরনের শাক, সবজি ইত্যাদি এ ডায়েটে থাকে। এ সকল খাবারে ভেজালের পরিমাণ কম এবং অল্প খরচে ডায়েট মেনে চলা যায় এবং ত্বক ও তার মাধুর্যতা বজায় রাখে।
গ্রিন ডায়েটের ফলাফল
এটি বিভিন্ন রোগ যেমন- কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুকি কমায়। এটি ত্বকের মাধুর্যতা বৃদ্ধি করে, সৌন্দর্য বাড়ায়। এছাড়া যাদের টাইপ টু ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে এ ডায়েট পদ্ধতি। যাদের কাম্য ওজন না থেকে অনেক বেশি ওজন অর্থাৎ ওবেসিটি আছে, তাদের ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে গ্রিন ডায়েট। পাশাপাশি এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
ডায়েট চলাকালীন যা খেতে পারবেন না
শরীরে মেদ বাড়িয়ে দেয় বা স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভবনা থাকে এসকল খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত মসলাযুক্ত, ডুবোতেলে ভাজা খাবার, ফাস্টফুড পরিহার করতে হবে। প্রতিদিন ঋতুভিত্তিক ফল খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কোন ধরনের কোমল পানীয় পান করা যাবে না এবং বাইরের জুস, শরবত থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। যাদের দুধ চা ও কফির অভ্যাস রয়েছে তারা এইসবের পরিবর্তে গ্রিন টি, ওলংটি, তুলসি চা অথবা মসলা চা পান করতে পারেন।
ডায়েট চলাকালীন যা মেনে চলতে হবে
গ্রিন ডায়েট চলাকালীন প্রতিদিন কমপক্ষে ২-৩ লিটার পানি পান করতে হবে। এছাড়াও বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ কোনো কারণে চাপ নেওয়া যাবে না। কোনো ধরনের মানসিক চাপ নেওয়া যাবে না। প্রতিদিন শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে দৈনিক ৬-৭ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। এতে শরীরের বিপাকক্রিয়া গুলো স্বাভাবিক ভাবে তাদের কাজ করতে পারবে।



