পলিগ্রাফ টেস্ট বা লাই ডিটেকটর পরীক্ষা হলো শারীরিক প্রতিক্রিয়া ধারণ করা হয় যার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয় যে একজন ব্যক্তি সত্য কথা বলছে কি-না। এই টেস্টে ৪-৬টি সেন্সর ব্যবহার করা হয়। পলিগ্রাফ পরীক্ষা নেওয়ার জন্য একটি মেশিন ব্যবহার করা হয়। সেখানে সেন্সর থেকে একাধিক সংকেত কাগজের একটি স্ট্রিপে গ্রাফ আকারে রেকর্ড করা হয়। সাধারণত রক্তচাপ কেমন, শ্বাস-প্রশ্বাসের পরিবর্তন এবং হাতের তালু ঘামছে কি-না, নাড়ির গতি এগুলোই তার মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে।
যেভাবে কাজ করে
শ্বাস-প্রশ্বাসের হার, পরিবর্তন, রক্তচাপ এবং ঘামের পরিমাণ এগুলোও দেখা হয়। হাত এবং পায়ে লাগানো সেন্সর থেকে আসা সংকেতগুলোর মাধ্যমে এগুলো দেখা হয়। রক্তচাপ ঠিক আছে কিনা তা দেখার জন্য আলাদা একটি মনিটরও থাকে। কেউ মিথ্যা বলতে চাইলে, তার শরীরে নানা পরিবর্তন আসে, সেগুলোই ধরা পড়ে এই পরীক্ষায়।
আঙুলে ও হাতের তালুতে তড়িৎ প্রবাহের পরিবর্তন লক্ষ্য করার জন্যে এই পরীক্ষায় ২টি নল বুক ও পাকস্থলীর আশেপাশে যুক্ত করা হয়। সেগুলো থেকেও নানা ধরনের সংকেত যায় যন্ত্রে। আর এগুলো থেকেই বোঝা যায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি সত্যি বলছেন, নাকি মিথ্যা।
প্রথমই ৩-৪টি সহজ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন। এরপর ধীরে ধীরে প্রশ্নে কঠিন হতে থাকে। কোনো প্রশ্ন শুনে যার ওপর পরীক্ষাটি চালানো হচ্ছে, তার শরীরে কী কী লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তার ওপর নির্ভরকরে পরীক্ষার ফল জানানো হয়।
এটি কতটা বিশ্বাসযোগ্য?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মিথ্যা বলার ফলে মানসিক চাপ বেড়ে যায়। সেই স্ট্রেস ধরা পড়ে ওই গ্রাফে। যদিও অনেকেই মনে করেন, প্রশ্নের ওপরও এই টেস্টের নির্ভুলতা অনেকটাই নির্ভরশীল। সবমিলিয়ে ৮০-৯০% ক্ষেত্রে নির্ভুল উত্তর পাওয়া যেতে পারে এতে।
তবে অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, অপরাধীরা নানাভাবে এই পরীক্ষা পাশ করে যেতে পারেন। বেশ কিছু সিনেমাও হয়েছে এর ওপর। সম্প্রতি এক বলিউড সিনেমাতেও দেখা গিয়েছে, কাহিনির কেন্দ্রীয় চরিত্রে থাকা নারী অপরাধী হওয়া সত্ত্বেও বেঁচে গিয়েছে পরীক্ষায় ধরা পড়া থেকে। আবার এমনও উদাহরণ রয়েছে, যেখানে দেখা গিয়েছে, এই পরীক্ষায় যাকে অপরাধী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, তিনি আসলে নির্দোষ। তাই এটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এখনও পর্যন্ত তদন্তের স্বার্থে এটি ব্যবহার করা হয়। এই পরীক্ষার ফলকে একেবারে নির্ভুল বলে ধরা হয় না।



