নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা হবে- এমন স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। আর তা বাস্তবায়ন করতে গিয়েই সারা জীবনের জমানো অর্থ বিনিয়োগ করেন তারা। অনেকে তো আবার ঋণ নিয়েও কেনেন। জমি কিনে ফ্ল্যাট বানানোর চেয়ে ফ্ল্যাট কেনা অনেকটা সাশ্রয়ী। তবে আপনি যদি ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহী হন তাহলে আপনার কিছু বিষয় জেনে নেওয়া উচিত।
যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা
ফ্ল্যাট কেনার আগে এলাকা নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আশেপাশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বাজারঘাট ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান আছে কিনা সেটা যাচাই করে দেখে নিতে হবে। মেট্রোরেলের আশেপাশে ফ্ল্যাট হলে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে।
সাধ্যের ভেতরে কেনা
ভালো এলাকায় ফ্ল্যাট কিনতে গেলে সেখানে আবার বেশি দামে কেনা লাগতে পারে। তবে সাধ্যের বাইরে ফ্ল্যাট কিনতে যাবেন না। লোন নিয়ে পরবর্তী সময়ে তা পরিশোধ করতে গিয়ে নতুন ফ্ল্যাট কেনার আনন্দ অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়বে। অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাটের দাম অনেক বেশি হয়। অত বেশি টাকা খরচ করার সামর্থ না থাকলে বিবেচনা করুন কোন বিষয়টি আপোষ করে আরেকটু কমের মধ্যে ফ্ল্যাট কিনবেন।
ফ্ল্যাট রাস্তার পাশে নাকি ভেতরের দিকে
অনেকেই যাতায়াত সুবিধার জন্য এমন ফ্ল্যাট খোঁজেন যেখানে বের হলেই গাড়ি, সিএনজি, রিকশা পাওয়া যায়। তবে এর সুবিধার পাশাপাশি এর অসুবিধাগুলোও দেখে নিতে হবে। ব্যস্ত সড়কের পাশের ফ্ল্যাট হলে গাড়ির হর্ন, রাস্তার কোলাহল যেমন বিরক্তির কারণ হতে পারে, তেমনি ধুলাবালির অত্যাচারও সইতে হবে বেশি। এর চাইতে কমপ্লেক্সের ভেতর ফ্ল্যাট কিনলে বেশ কিছু সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, ব্যায়ামাগার, শপিং মল, অনুষ্ঠান করার হলরুমের ব্যবস্থা থাকে কমপ্লেক্সে।
পানি ও গ্যাসের সুবিধা
যত সুন্দর ও সজ্জিত ফ্ল্যাটই হোক না কেন সেখানে যদি পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সুবিধা না থাকে তাহলে কিন্তু পরবর্তীতে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

কেনার পর সংস্কারের প্রয়োজন আছে কিনা
ফ্ল্যাট কেনার পর ইন্টেরিয়র বাবদ আপনাকে আরও খরচ করতে হবে কিনা তা ভেবে দেখতে হবে। সাজসজ্জা অথবা সংস্কারের প্রয়োজন থাকলে শ্রমিক, ঠিকাদার এবং স্থপতিদের সঙ্গে কাজ করতে হবে ফ্ল্যাট কেনার পর। এতে সময়, শ্রম এবং বেশ বড় অংকের অর্থ ব্যয় করতে হয়। তাই ফ্ল্যাট কেনার আগে এটা মাথায় রাখতে হবে।
গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা আছে কিনা
নিজস্ব ট্রান্সপোর্ট নেই বলে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই এমন ফ্ল্যাট না কেনাই ভালো। কারণ ভবিষ্যতে গাড়ি কিনলে সেটা রাখার জন্য বিড়ম্বনায় পড়তে হবে। অবশ্য আবাসিক সোসাইটিতে ফ্ল্যাট কিনলে বেশিরভাগ সময় পার্কিং সুবিধা চুক্তির অংশ হিসেবেই থাকে।
আবাসন প্রতিষ্ঠানের খ্যাতি কেমন
কেউ কম দামে অধিক সুযোগ-সুবিধাসহ ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রলোভন দেখালেই সেটা কিনে ফেলা যাবে না। আবাসন প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই বাছাই করে দেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্ল্যাটের নির্মাণ সামগ্রী উন্নতমানের কিনা
বাইরে থেকে দেখতে যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন বাড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত সামগ্রী যদি উন্নতমানের না হয় তবে কিন্তু ভবিষ্যতে বিপদে পড়তে পারেন। ফ্ল্যাট কেনার আগে অবশ্যই সেখানকার জানালা, দরজা, টাইলস ও অন্যান্য উপকরণ ভালোমানের কিনা সেটা যাচাই করে দেখতে হবে।
রাজউকের হলে এলাকার প্রকল্পের অনুমোদন আছে কিনা
ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনতে চাইলে ভবনের নকশা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদিত কিনা সেটা যাচাই করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার বাইরে হলে নিজ নিজ এলাকার প্রকল্পের অনুমোদন নেওয়া আছে কিনা সে বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখতে হবে। অনুমোদন নেওয়া থাকলে নকশা অনুযায়ী ভবন তৈরি হয়েছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে।
চুক্তিপত্রের খুঁটিনাটি যাচাই করা
ফ্ল্যাট কেনার চুক্তি পত্রটি অবশ্যই একজন দক্ষ আইনজীবীকে দিয়ে যাচাই করে নিতে হবে। চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয়গুলোও ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। যদি কিস্তির মাধ্যমে কেনার কথা থাকে, তাহলে কয় কিস্তি এবং হস্তান্তর কবে হবে, এ বিষয়ে সুস্পষ্ট করে চুক্তিনামায় লেখা থাকতে হবে।
রিসেল ভ্যালু পাওয়া যাবে কিনা যাচাই করবেন
যেকোনো পরিস্থিতিতে ফ্ল্যাটটি বিক্রি করার প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে পুনঃবিক্রয় মূল্য ভালো পাওয়া যাবে কিনা- ফ্ল্যাট কেনার আগে সেটাও মাথায় রাখতে হবে।



