Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমসিংহে গ্রেপ্তার

তিনি ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দ্বীপ রাষ্ট্রটির ক্ষমতায় ছিলেন

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৩৯ পিএম

শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে  পুলিশ। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিদেশ সফরে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাজধানী কলম্বোর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রনিল বিক্রমাসিংহকে হাজির করা হয়। তবে এর আগেই তিনি অভিযোগের বিষয়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তার ভাষ্য জানিয়ে দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনি ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দ্বীপ রাষ্ট্রটির ক্ষমতায় ছিলেন। চরম অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণে সৃষ্ট গণবিক্ষোভের মুখে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর বিক্রমাসিংহে ওই পদে বসেন। এই সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে খানিকটা চাঙ্গা করার কৃতিত্ব তাকে অনেকেই দেন।

এর আগে, বিক্রমাসিংহে ১৯৯০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আলাদা আলাদাভাবে ছয়বার শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।

৭৬ বছর বয়সী এ রাজনীতিক প্রেসিডেন্ট থাকাকালে মোট ২৩টি দেশ সফর করেছিলেন, তাতে প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার খরচ হয়েছিল। এর মধ্যে কিউবায় ২০২৩ সালে জি৭৭ সম্মেলনও রয়েছে। ওই সম্মেলন শেষে ফেরার পথে বিক্রমাসিংহে যুক্তরাজ্যে যাত্রা বিরতি নিয়েছিলেন।

এরপর তিনি ও তার স্ত্রী ওলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। এ সফরকে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ে ব্যক্তিগত ভ্রমণ বলে অভিযোগ করেছে শ্রীলঙ্কার সিআইডি। এই অভিযোগেই সাবেক প্রেসিডেন্টকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়। বিক্রমাসিংহে তার বিরুদ্ধে আনা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সিআইডি প্রাথমিকভাবে জুন মাসেই তাদের তদন্তের বিষয়টি আদালতকে জানিয়েছিল।

বিক্রমাসিংহের আগে শ্রীলঙ্কার কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট গ্রেপ্তার হননি। ১৯৭৭ সালে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দ্বীপ রাষ্ট্রটির রাজনীতিতে তিনি প্রভাবশালী হিসেবেই বিবেচিত হয়ে আসছিলেন।পেশায় আইনজীবী বিক্রমাসিংহে অবস্থাপন্ন যে পরিবার থেকে রাজনীতিতে এসেছেন সে পরিবারে রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা অনেক।

১৯৯৪ সালে নেতৃত্ব নেওয়ার পর দল থেকে দুর্নীতিবাজ সদস্যদের সরিয়ে ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের কৃতিত্বও তাকে দেওয়া হয়।

এর আগে, তিনি বেশ কয়েকবারই প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু রাজাপাকসে পালিয়ে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সে চেষ্টার কোনোটিই সফল হয়নি। ২০২০ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার দল প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল, সেবার কেবলমাত্র তিনিই দলের প্রতিনিধি হয়ে পার্লামেন্টে যেতে পেরেছিলেন।

   

About

Popular Links

x