Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হান্টাভাইরাস আক্রান্ত প্রমোদতরীর সব যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হলো

ডাচ পতাকাবাহী ‘এমভি হন্ডিয়াস’ জাহাজটি নেদারল্যান্ডসের রটারডাম বন্দরে পৌঁছাবে রবিবার

আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসের কবলে পড়া প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’ থেকে সব যাত্রীদের স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা যাত্রীদের মধ্যে অন্তত সাতজনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সেখানে পৌঁছানোর পর পুরো জাহাজটিতে জীবাণুমুক্তকরণ কার্যক্রম চালানো হবে।

বর্তমানে জাহাজটিতে ২৫ জনের বেশি ক্রু ও চিকিৎসাকর্মী রয়েছেন। এছাড়া যাত্রাপথে প্রাণ হারানো এক জার্মান নাগরিকের মরদেহও জাহাজে রয়েছে। তবে সব যাত্রী ইতোমধ্যেই জাহাজ ত্যাগ করেছেন।

সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যা ৭টায় জাহাজটি নোঙর তুলে বন্দর ত্যাগ করে নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে রওনা দেয়। ডাচ পতাকাবাহী এই জাহাজটি আগামী রবিবার সন্ধ্যায় রটারডাম বন্দরে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া গোমেজ তেনেরিফের বন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “অভিযান সফল হয়েছে। গত দুই দিনে ২৩টি দেশের ১২৫ জন যাত্রী ও ক্রুকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা ইতোমধ্যেই নিজ দেশে ফিরেছেন অথবা ফেরার পথে রয়েছেন।”

উদ্ধার করা শেষ দলটি চার্টার করা বাসে করে তেনেরিফ সাউথ বিমানবন্দরে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে দুটি ফ্লাইটে মঙ্গলবার ভোরে নেদারল্যান্ডসে নামেন। এদের মধ্যে ১৭ জন ফিলিপিনো ক্রুসহ ডাচ, জার্মান ও ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। বাকি যাত্রীদের নিজ দেশে ফেরার আগে বিমানবন্দরের কাছের একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হয়।

সাদা রঙের সুরক্ষামূলক পোশাক ও মাস্ক পরে যাত্রীরা উড়োজাহাজ থেকে নামেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস যাত্রীদের আশ্বস্ত করে জানান, তারা এখন নিরাপদে রয়েছেন। তবে জাহাজে অবস্থান করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত।

ফ্রান্স ও স্পেন দেশ দুইটির নাগরিকদের সংক্রমণের খবর নিশ্চিত করেছে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু জানান, আইসোলেশনে থাকা পাঁচ ফরাসি নাগরিকের মধ্যে এক নারী এবং স্পেনের ১৩ জন নাগরিকের মধ্যে একজন আক্রান্ত হয়েছেন। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্ত এক নারীকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে, তবে তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।

এদিকে, সংক্রমণের উৎস নিয়ে কিছুটা বিতর্ক দেখা দিয়েছে। জাহাজটি গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনা থেকে রওনা হয়েছিল, যেখানে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের ইতিহাস রয়েছে। ডব্লিউএইচও মনে করছে, যাত্রা শুরুর আগেই সংক্রমণ ঘটেছিল এবং পরে জাহাজে তা মানুষের মাধ্যমে ছড়িয়েছে। তবে আর্জেন্টিনার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

আর্জেন্টিনা থেকে আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার পথে জাহাজটিতে বিরল এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ানো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য আতঙ্ক তৈরি করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জীবিতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সাতজনের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া আরও একজনকে ‘সম্ভাব্য আক্রান্ত’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট টিকা বা চিকিৎসা নেই। তবে এটি ‘কোভিড-১৯’-এর মতো মহামারি নয় এবং সাধারণ মানুষের জন্য এর ঝুঁকি বেশ কম।

   

About

Popular Links

x