ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে বালু উত্তোলন ও এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির এক নেতাসহ অন্তত তিনজনকে গাড়ির ভেতর জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যার নির্মম ঘটনা ঘটেছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে চলা বালু মহালের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ছত্তিশগড়ের কোরিয়া জেলার সোনহাত থানার নওগাইন গ্রামে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কোরিয়া জেলার সাবেক জনপদ পঞ্চায়েত সভাপতি তথা স্থানীয় বিজেপি নেতা ভারত সিং ওরফে লাল্লা সিংসহ তার সঙ্গীরা একটি ফরচুনার এসইউভি গাড়িতে ছিলেন। হামলাকারীরা সুপরিকল্পিতভাবে একাধিক ট্রাক দিয়ে তাদের গাড়িটির সামনে ও পেছনে অবরুদ্ধ করে ফেলে, যাতে পালানোর কোনো পথ না থাকে। এরপর গাড়িটিতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর গাড়ির ভেতর থেকে বিজেপি নেতা ভারত সিং, বীরেন্দ্র সিং ও নগেন্দ্র সিংয়ের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হামলায় মায়াঙ্ক সিং নামের আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মাথা ও মুখে মারাত্মক আঘাত নিয়ে তিনি বিলাসপুরের অ্যাপোলো হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্ত ও নিহতের পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকার একটি বালু মহালের ইজারা পেয়েছিল নিহত বিজেপি নেতা ভারত সিংয়ের পরিবার। এরপর সোনহাত, কৈলাশপুর, তেলিমুদা ও বেলিয়াসহ আশেপাশের এলাকায় বালু পরিবহন এবং খনি সংশ্লিষ্ট অবৈধ চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মনোজ ত্রিপাঠী নামের আরেক বিজেপি নেতার পরিবারের সাথে ভারত সিংয়ের বিরোধ শুরু হয়।
ত্রিপাঠী পরিবারের বেশ কিছু ট্রাক বৈকুণ্ঠপুরে বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো। বালু উত্তোলনের টাকা এবং এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের এই আধিপত্যের লড়াই গত কয়েক মাস ধরে চলছিল। স্বজনদের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে সেই বিরোধের মীমাংসা করতেই গিয়েছিলেন ভারত সিং, কিন্তু তিনি মূলত একটি সুপরিকল্পিত ফাঁদে পা দিয়েছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনায় কোরিয়া জেলা পুলিশ এখন পর্যন্ত চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন, অক্ষত ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠী ও মন্নু ত্রিপাঠী। এই ঘটনায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ গুরুতর অপরাধের অভিযোগে মোট ৯ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করা হয়েছে। বাকি ৫ আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে ছত্তিশগড় রাজ্য জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক ভাইয়ালাল রাজওয়াড়ে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, কোরিয়া জেলার ইতিহাসে এমন নৃসংশ ঘটনা নজিরবিহীন। দুই পক্ষের পূর্ব বিরোধের কথা জানা থাকলেও তা কীভাবে এমন রূপ নিল, তা তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই বলেছেন, কোরিয়া জেলার ঘটনাটি তার নজরে এসেছে। আইন অনুযায়ী ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধে জড়িত দোষী সাব্যস্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।



