আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দরপতনের পরপরই চাঙ্গা হয়ে উঠেছে স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেওয়া সত্ত্বেও পর পর দুই দিন দাম বেড়ে স্বর্ণ এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে রূপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের বাজারও এখন শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ১% বেড়ে দাঁড়ায় ৪,৩৭৮.৯৭ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলার পরও সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার আশ্বাসে বাজারে তেলের দাম পর পর তিন দিন কমেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যহ্রাসে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি আসায় বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার হয়তো আর অতিমাত্রায় বাড়াবে না। এই ধারণাই মূল্যবান ধাতুর বাজারে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ বিবেচনা করা হয়। ব্যাংক সুদের হার বাড়লে সাধারণত স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ সাময়িক কমে। তবে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ‘গোল্ডম্যান স্যাক্স’ পূর্বাভাস দিয়ে জানিয়েছে, “বর্তমান সুদনীতির মধ্যেও স্বর্ণের বাজার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে না; বরং ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫,৪০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।” বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও তাদের সুদের হার ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “মূল্যবান ধাতুর এই ঊর্ধ্বমুখী যাত্রার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের ওপর। সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে তেলের দাম ফের লাফিয়ে বাড়লে সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে, যা স্বর্ণের দামে কিছুটা মন্দা আনতে পারে।”
তবে চলতি সপ্তাহের শেষ ভাগে ধাতুর বাজার সামগ্রিকভাবে চাঙ্গা রয়েছে। রূপার দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৭.০৩ ডলারে উঠে এসেছে। পাশাপাশি প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের বাজারেও উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে।



