Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যে দেশে এ যুগেও পুরুষের কাছে নারীদের পেটানো ‘বৈধ'

ইউরোপের সেই দেশটির অনেক পুরুষ অফিস-আদালতে কাজ করা নারীদের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল নন 

আপডেট : ১২ জুন ২০২৩, ০৭:৫০ পিএম

মানবসভ্যতার ইতিহাসে নারীদের ওপর নিপীড়নের ঘটনা পুরোনো। বহুকাল ধরে তারা সয়ে এসেছেন অত্যাচার। সময়ের পালে হাওয়া লেগে এসেছে পরিবর্তন। এখন নারী নির্যাতন সভ্য দেশগুলোতে বেআইনি। আইন করে নির্যাতন পুরোপুরিভাবে বন্ধ করা যায়নি। মানসিকতার পরিবর্তন তো দূরের বিষয়।

সম্প্রতি এক সমীক্ষার ফলাফল মানবাধিকার কর্মীদের বিস্মিত এবং উদ্বিগ্ন করেছে। এতে দেখা গেছে, প্রতি তিনজনে একজন, অর্থাৎ অন্তত ৩৩% জার্মান পুরুষ মনে করেন, কখনো কখনো নারীর গায়ে হাত তোলা বড় কিছু নয়। সমীক্ষাটি পরিচালনা করেছে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল জার্মানি।

শিশুদের আন্তর্জাতিক দাতব্য প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এক হাজার নারী এবং এক হাজার পুরুষের কাছে নারী-পুরুষের সমান অধিকার সংশ্লিষ্ট কিছু প্রশ্নের জবাব চাওয়া হয়। এক প্রশ্নের জবাবে ৩৩% পুরুষ জানান, ঝগড়ার এক পর্যায়ে উত্তেজনাবশে নারীর গায়ে হাত তোলা “গ্রহণযোগ্য”। তাদের অনেকেরই সেই অভিজ্ঞতা আছে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, অন্তত ৩৪% পুরুষ অতীতে এক বা একাধিকবার নারীর সঙ্গে সহিংস আচরণ করেছেন।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল জার্মানির সমীক্ষা আরও জানাচ্ছে, জার্মানির অনেক পুরুষ ঘরের বাইরে, অর্থাৎ অফিস, আদালতে কাজ করা নারীদের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল নন। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫২% পুরুষ মনে করেন, সংসারের জন্য আয়-উপার্জন পুরুষদেরই করা উচিত। তারা আরও মনে করেন, নারীদের বিশেষত ঘরের কাজই করা উচিত।

পছন্দসই যৌনজীবনের বিষয়ে জার্মানদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশের মানসিকতাও মানবাধিকার কর্মীদের বিস্মিত করেছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪২% মানুষ জানিয়েছেন, সমকামিতা নিয়ে কোনো প্রচার তারা পছন্দ করেন না।

নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার কাজের জন্য পরিচিত ফেডারেল ফোরাম মেন-এর কারস্টেন কাসনার সমীক্ষার ফলাফলে খুব বিস্মিত। জার্মানির ফুঙ্কে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, “৩৩% পুরুষ নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতাকে যে এভাবে দেখছে- এটা নিঃসন্দেহে চিন্তার বিষয়। জরুরি ভিত্তিতে এ অবস্থা পরিবর্তন করা দরকার।”

জার্মানিতে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা অবশ্য নতুন কিছু নয়। দেশটির কেন্দ্রীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে পুরুষ সঙ্গীর নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এক লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি জার্মান নারী। হিসেব করে দেখা গেছে, সে বছর প্রতি ঘণ্টায় নির্যাতিত হয়েছিলেন কমপক্ষে ১৩ জন নারী।

About

Popular Links