Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দুর্ভিক্ষের মাত্র এক ধাপ দূরে হাইতির ১০ লাখ মানুষ

এক কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে ইতোমধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৪, ০৩:৫২ পিএম

হাইতির অন্তত ১০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মাত্র এক ধাপ দূরে রয়েছে। আর প্রায় ৪০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ক্যারিবীয় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির খাদ্য সঙ্কটের চিত্র তুলে ধরেন জাতিসংঘের খাদ্য সংস্থার পরিচালক জিন-মার্টিন বাউয়ার।

তিনি বলেন, ‘‘সতর্ক সঙ্কেত বেজে উঠছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা বৃদ্ধির ফলে পরিস্থিতিকে খুব খারাপ থেকে আরও খারাপ করে তুলেছে। মার্চের প্রথম সপ্তাহেই রাজধানী পোর্ট অ-প্রিন্সে আরও ১৫,০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘এক কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে ইতোমধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ। জাতিসংঘের হিসেব মতে মোট বাস্তুচ্যুতদের অর্ধেকেই শিশু।’’

বাউয়ার বলেন, ‘‘২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারীর সময় ৪০ লাখ খাদ্য নিরাপত্তাহীন ও ক্ষুধার্ত হাইতিয়ান ছিল। এই সংখ্যা কমেনি, তবে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে থাকা সংখ্যাটি ১০ লাখে উন্নীত হয়েছে।’’

বাউয়ার বলেন, ‘‘পোর্ট-অ-প্রিন্সকে একটি বুদবুদে পরিণত করা হয়েছে। যেখানে গ্যাংগুলো রাস্তা নিয়ন্ত্রণ করে, বন্দর ও বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয় ও কেউ ঢুকতে বা বের হতে পারে না।’’

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির পরিচালক বলেন, ‘‘সংস্থাটি ও তার অংশীদাররা রাজধানীতে নতুন করে বাস্তুচ্যুতদের জন্য খাবার বিতরণ শুরু করেছে। দিনে ২,০০০ জনের খাবার দিয়ে শুরু করা হয়েছিল। এখন তা দিনে প্রায় ১৪ হাজার জনের খাবার রয়েছে।’’

তবে তিনি বলেন, ‘‘বন্দরটি পুনরায় চালু করা হলে না করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ডব্লিউএফপির গুদামের সরবরাহ শেষ হয়ে যাবে।’’

হাইতি তার খাদ্য সরবরাহের ৫০-এর জন্য খাদ্য আমদানির উপর নির্ভর করে। বাউয়ার বলেন, ‘‘ডব্লিউএফপি নিশ্চিত করতে পারে, পোর্ট-অ-প্রিন্সের পাশাপাশি হাইতির অন্য এলাকায় খাদ্যের দাম বাড়ছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘জানুয়ারিতে গোলযোগ হয়েছিল। দক্ষিণে খাদ্যের দাম ২৫% বেড়েছে, যেখানে রাস্তাঘাট অবরোধ করা হয়েছিল এবং ট্রাকগুলো মৌলিক প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পোর্ট-অ-প্রিন্সে যেতে পারেনি। সেখানে রান্নার জন্য প্রাথমিক জ্বালানি প্রোপেনের সংকট ছিল।’’

বাউয়ার বলেন, ‘‘সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গ্যাং সহিংসতার কারণে খাদ্যপণ্যের দাম অন্তত ১০% বেড়েছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘রাজধানীর বাইরের গ্রামীণ এলাকার অর্থনীতি পোর্ট-অ-প্রিন্সের সংযোগের উপর নির্ভর করে এবং বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার কারণে দেশের অন্যত্র খাদ্যের দামও বেড়েছে।’’

বাউয়ার বলেন, ‘‘ডব্লিউএফপির এক জরিপে দেখা গেছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে পরিবারের আয় কমে যাচ্ছে, কারণ মানুষ কাজে যেতে পারছে না। তারা একটি জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছে ও অর্থ উপার্জন করছে না।’’

প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল হেনরির পদত্যাগের প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে বাউয়ার বলেন, ‘‘তিনি রাজনৈতিক গতিশীলতা পড়ার ক্ষেত্রে ভাল নন তবে আমরা অবশ্যই আশা করি যে নিরাপত্তার উন্নতি হবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘নিরাপত্তাহীনতা মানুষকে এই মুহূর্তে খুব সাধারণ কাজগুলো করতে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া, বা সুপারমার্কেটে যাওয়া বা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’

উত্তর হাইতির ক্যাপ হাইতিয়েন থেকে কথা বলার সময় বাউয়ার জোর দিয়ে বলেন, ‘‘শুধু নিরাপত্তার দিকে নজর দিলে হবে না, আমাদের জোরালো মানবিক সহায়তাও প্রয়োজন।’’

কিন্তু এ বছর হাইতির জন্য জাতিসংঘের ৬৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের মানবিক আবেদনের মাত্র ২.৬% অর্থায়ন করা হয়েছে।

বাউয়ার বলেন, ‘‘স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ডব্লিউএফপি কিনতে পারে এমন সরবরাহের জন্য ধন্যবাদ। এটি চলমান কর্মসূচির অংশ হিসাবে সোমবার উত্তর ও দক্ষিণ হাইতি এবং অন্যান্য শান্ত অঞ্চলে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার স্কুল শিশুকে খাওয়াতে সক্ষম হয়েছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘সহিংসতার কারণে প্রবেশের ঝুঁকি সত্ত্বেও ডব্লিউএফপি হাইতির কিছু দরিদ্র মানুষের কাছে তাদের মোবাইল ফোনে অর্থ পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।’’

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক মঙ্গলবার বলেছেন, ‘‘গোষ্ঠীগত সহিংসতার কারণে অনেক স্বাস্থ্য সুবিধা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেন্টারে রক্তের ঘাটতি রয়ে গেছে এবং প্রতিবেশী ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র থেকে রক্ত আনার চেষ্টা চলছে।’’

About

Popular Links