Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘গরমে সুরক্ষা দিতে’ সু চি’কে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি

সু চি’কে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০১:২১ পিএম

সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গ্রেপ্তার মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অং সান সু চিকে কারাগার সরিয়ে গৃহবন্দি করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) সামরিক জান্তার মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘‘আবহাওয়া অত্যন্ত গরম, তাই শুধু অং সান সুচি নয়, যাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা প্রয়োজন, বিশেষ করে বয়স্ক বন্দিদের, আমরা তাদের হিটস্ট্রোক থেকে রক্ষা করার জন্য কাজ করছি।’’

মঙ্গলবার গভীর রাতে চারটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

সু চি’কে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এই বিষয়ে জানতে জাও মিন তুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও মন্তব্য পায়নি রয়টার্স।

আগের জান্তা সরকার সু চি’কে গ্রেপ্তার করে ইয়াঙ্গুনের ইনিয়া লেকের একটি জরাজীর্ণ ঔপনিবেশিক ধাঁচের পারিবারিক বাসভবনে গৃহবন্দি রেখেছিল। যেখানে টানা ১৫ বছর বন্দি ছিলেন তিনি। ওই বাসভবনেই গেটের কাছে দাঁড়িয়ে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে আবেগপ্রবণ বক্তৃতা দিয়েছিলেন।

২০২১ সালে একটি অভ্যুত্থানে সরকার উৎখাত করার পর ৭৮ বছর বয়সী সু চি’কে গ্রেপ্তার করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। রাষ্ট্রদ্রোহ, ঘুষ থেকে শুরু করে টেলিকমিউনিকেশন আইন লঙ্ঘনের মতো অপরাধের কথা বলে তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে জান্তা অনুগামী বিচার বিভাগ।

সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন মিয়ানমারের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সবশেষ এই সরকার প্রধান।

ফেব্রুয়ারিতে তার ছেলে কিম অ্যারিস বলেছিলেন, ‘‘সু চি’কে নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে।’’

বিশ্ব নেতারা ও গণতন্ত্রপন্থীরা বারবার তার মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন।

মিয়ানমারের বিরোধীদের ছায়া সরকারের মুখপাত্র কিয়াও জাও সু চি ও মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন্টের নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘‘তাদের কারাগার থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া ভালো, কারণ কারাগারের চেয়ে ঘরগুলো ভালো। তবে তাদের অবশ্যই নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। তাদের অবশ্যই অং সান সু চি এবং ইউ উইন মিন্টের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে।’’

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিক থেকে মিয়ানমারের তিনটি জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী একজোট হয়ে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ শুরু করে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো হলো- তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি-টিএনএলএ, আরাকান আর্মি-এএ এবং মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি-এমএনডিএএ।

এই হামলায় অনেক অঞ্চলেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে মিয়ানমার জান্তা। বিদ্রোহীদের সঙ্গে আপোষ করতে নানা মিত্রদের দিয়ে মধ্যস্ততার চেষ্টা করছে। সেনাবাহিনীতে জনশক্তি বাঁড়াতেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সবমিলিয়ে সুস্পষ্ট যে তারা বেকায়দায় রয়েছে। সু চি’কে গ্রেপ্তার ও বিচারে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল জান্তা সরকার, তাকে এবার গৃহবন্দি করার মধ্য দিয়ে যেন এক পা পিছিয়ে গেল তারা, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

   

About

Popular Links

x