শেষের পথে সারাবিশ্বের মুসলমানদের পবিত্রতম মাস রমজান। অপেক্ষা ঈদ-উল-ফিতরের। রমজান মাস ২৯ দিনে শেষ হবে নাকি ৩০ দিনে শেষ হবে তা নির্ভর করছে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর। এ অবস্থায় শনিবার (২৯ মার্চ) শাওয়াল মাসের চাঁদ অনুসন্ধানে দেশটির জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। এদিন দেশটিতে ১৪৪৬ হিজরি সনের রমজান মাসের ২৯তম দিন।
তবে এবার চাঁদ দেখা নিয়ে সৌদি আরবে বিতর্ক দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর এই বিতর্ক উসকে দিচ্ছেন দেশিটি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বেশির ভাগ প্রান্ত থেকে শনিবার শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাবে না। তবে অনেকে আবার প্রত্যাশা করছেন, আজই চাঁদ দেখা যেতে পারে।
আর তাতেই বিতর্কে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, অতীতেও সৌদি আরবে মাঝেমধ্যে চাঁদ দেখা নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা গেছে।
আর এ কারণেই অনেকে মনে করছেন, চাঁদ দেখা না গেলেও সৌদি আরব রবিবার ঈদ হতে পারে বলে ঘোষণা দিতে পারে।
আর এমন আশঙ্কার কারণ, জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সঙ্গে সৌদি সরকারের “মতবিরোধ”।
অভিযোগ রয়েছে, অতীতে অনেকবার সৌদি রাজতন্ত্র চাঁদ না দেখেই চাঁদ দেখার কথা বলে ঈদ উদ্যাপনের ঘোষণা দিয়েছে। আর এমন ঘটনা তখনই ঘটেছে যখনজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যখন বলেছেন, চাঁদ দেখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তবে সৌদি সরকার কখনো এসব সমালোচনার জবাব দেয়নি।
সৌদি আরবের বাৎসরিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এবার শাওয়াল মাসের প্রথম দিন; অর্থাৎ ঈদ-উল-ফিতরের দিন হচ্ছে ৩০ মার্চ। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, টেলিস্কোপ বা অন্যান্য যেসব উপায়ে চাঁদ দেখা যায়, সেসব উপায়ে শনিবার চাঁদ দেখা সম্ভব হবে না।
এর আগে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে সৌদি সরকার যখন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের ঘোষণা দেয়, তখন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রশ্ন তুলে বলেছিলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে ওই দিন চাঁদ দেখা অসম্ভব।
ওই বছরের ২০ এপ্রিল সৌদি আরবে চাঁদ দেখা কমিটি চাঁদ দেখার ঘোষণা দিয়ে ঈদের ঘোষণা দিয়েছিল। ওই ঘোষণার পর কুয়েতের প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী আদেল আল–সাদৌন ঘোষণা দিয়েছিলেন, “এই সন্ধ্যায় আরব উপদ্বীপে চাঁদ দেখা অসম্ভব।”
অনেক পর্যবেক্ষক সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চাঁদের একটি ছবি উপস্থাপন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো ছবি সরবরাহ করা হয়নি। অবশ্য সৌদি জ্যোতর্বিজ্ঞানী মুলহাম আল–হিন্দি চাঁদের অনুজ্জ্বল একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করেছিলেন, চার্জ–কাপলড ডিভাইস (সিসিডি) ইনফ্রারেড ক্যামেরা দিয়ে ওই ছবি তোলা হয়েছে।
২০২৪ সালে সৌদি আরব ৬ জুন ঈদ-উল-আজহার ঘোষণা দিয়েছিল। সাধারণত ঈদ-উল-ফিতরের ২ মাস ১০ দিন পর ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়।
তখনো জ্যোতির্বিজ্ঞানী কমিটি বলেছিল, ওই দিন নতুন চাঁদ দেখা সম্ভব নয়। তারপরও তখন সৌদি সরকার ঈদের ঘোষণা দিয়েছিল।
অন্যদিকে, কাতার সরকারের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এ বছর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ২৯ মার্চ শনিবার সূর্যের সঙ্গে চাঁদের সংযোগ ঘটবে।
যুক্তরাজ্যের হিজ ম্যাজেস্টি’স নটিক্যাল আলমানাক অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব বা বাহরাইনে ওই দিন চাঁদ দেখা যাবে না।
জ্যোতির্বিদ্যা–সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহকারী সরকারি এই প্রতিষ্ঠান বলেছে, পরদিন রবিবার নতুন চাঁদ সহজে দেখা যাবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যাকেন্দ্র (আইএসি) একই রকম ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, শনিবার নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করেও নতুন চাঁদ দেখা সম্ভব নয়।
সৌদি আরব উম্ম আল-কুরা নামে বাৎসরিক ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে থাকে। এই ক্যালেন্ডার গণনাভিত্তিক এবং এতে গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো আগাম চিহ্নিত করা হয়। এই উম্ম আল-কুরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, শাওয়াল মাসের প্রথম দিন; অর্থাৎ ঈদ-উল ফিতর হবে ৩০ মার্চ।
সৌদি আরব উম্ম আল–কুরা নামে বাৎসরিক ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে থাকে। এই ক্যালেন্ডার গণনাভিত্তিক এবং এতে গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো আগাম চিহ্নিত করা হয়।
এই উম্ম আল-কুরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, শাওয়াল মাসের প্রথম দিন; অর্থাৎ ঈদ-উল-ফিতর হবে ৩০ মার্চ।
এ কারণে অনেক বিশেষজ্ঞ ধারণা করছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ রবিবার ঈদ হবে বলে ঘোষণা দিতে পারে। এক্ষেত্রে তারা শনিবার চাঁদ দেখা গেল কি গেল না, সেটি গুরুত্ব নাও দিতে পারে।



ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে যে আহ্বান জানালো সৌদি আরব