তিন শিশু সন্তানকে দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি অস্বাস্থ্যকর ঘরে বন্দি রাখার অভিযোগে এক জার্মান দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেনের পুলিশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ঘরটিকে ভীতিকর হিসেবে উল্লেখ করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ওভিয়েদো শহরের ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত করে দেখা হবে তারা কীভাবে এবং কেন স্পেনে এসে এমন জীবনযাপন শুরু করেছিলেন।
স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আস্তুরিয়াস অঞ্চলের পুলিশের বরাতে মাদ্রিদ থেকে সংবাদমাধ্যম এএফপি এক প্রতিবেদনে জানায়, আট বছর বয়সী যমজ দুই সন্তান ও ১০ বছর বয়সী আরেকটি শিশুকে স্কুলে পাঠানো হয়নি। তারা অবহেলিত অবস্থায় নোংরা ঘরের মধ্যে বসবাস করছিল।
স্থানীয় গণমাধ্যম প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে, পুলিশ যখন ঘরে ঢোকে, তখন শিশুরা ডায়াপার পরা ছিল এবং প্রত্যেকের মুখে তিনটি করে সার্জিক্যাল মাস্ক পরান ছিল। শিশুর বাবা পুলিশকে ঘরে ঢোকার আগে মাস্ক পরার অনুরোধ করেন।
এপ্রিল মাসের শুরুতে এক প্রতিবেশীর অভিযোগের পর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, বাড়িটি যার নামে নিবন্ধিত শুধু তিনিই নন, আরও অনেকে সেখানে বাস করছেন—তাদের মধ্যে স্কুলে না যাওয়া শিশুরাও ছিল।
পুলিশ জানায়, বাড়িটিতে বিপুল পরিমাণে অনলাইন বাজার সদাই পৌঁছানো হতো, যা সন্দেহের উদ্রেক করে। প্রতিবেশীরা জানান, ২০২১ সালের অক্টোবরের পর করোনা মহামারির সময় থেকে কেউই বাড়ি থেকে বের হতো না।
পুলিশ আরও জানায়, দম্পতির ঘরে বিপুল পরিমাণ ওষুধ মজুত করা ছিল।
পুলিশ কমিশনার ফ্রান্সিসকো হাভিয়ের লোজানো গার্সিয়া বলেন, “করোনাপরবর্তী সিনড্রোমে আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে আক্রান্ত হয়েছিলাম। মনে হয়, এই পরিবার দীর্ঘ সময় ঘরবন্দি থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেই সিনড্রোম থেকেই।
লোজানো গার্সিয়া আরও বলেন, “তারা মাস্ক পরেছিল, এটি হয়তো সাধারণ ঘটনা। আবার এর পেছনে কোনো মানসিক সমস্যাও থাকতে পারে।”
স্থানীয় লা রাসন পত্রিকা জানিয়েছে, ঘরের ভেতরে গন্ধ ছিল অসহনীয় এবং সব জানালার পর্দা টানা ছিল। শিশুরা যখন প্রথমবার ঘর থেকে বের হয়, তারা মুগ্ধ হয়ে ঘাস স্পর্শ করে, যেন জীবনে প্রথমবার বাইরের পরিবেশে এসেছে।
এক চিকিৎসক তিন ভাইবোনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন, এরপর তাদের একটি শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হয়।



