Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফর ও ভারত-মার্কিন সম্পর্ক

মোদি বলেছেন, তার এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৩, ০৬:১৫ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন। তার এই সফরকে ঘিরে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান কালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের গণতন্ত্র ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু বৈষম্য নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হন। তিনি উত্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ভারতের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও ভারতকে এ বিষয়ে পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। মোদি বলছেন, তার এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। 

ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রমে সম্পর্কের পরিসর বাড়িয়ে চলছে। এর নেপথ্যে আছে একাধিক কারণ। প্রথমেই ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বিশ্বের অন্যতম জনসংখ্যার দেশ হওয়ায় আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রভাব বেড়ে চলেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের ক্রমবর্ধমান যুক্ত হওয়া। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব কমানোর ক্ষেত্রে নয়া দিল্লীর অবস্থান।

মোদিরর যুক্তরাষ্ট্র সফরের অন্যতম প্রধান বিষয় হলো ভারতের হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠান জিই-এর মধ্যে যৌথ চুক্তি। এর মাধ্যমে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্সের এয়ারক্রাফ্ট এমকে-২ এর জন্য এফ-৪১৪ জেট ইঞ্জিন তৈরি করবে জিই। এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন মোদি-বাইডেন। 

মোদির এই সফরে দুই দেশের মধ্যে- প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও উচ্চ প্রযুক্তির চিপ তৈরির বিষয়গুলো নিয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্র বেড়েছে। এসব ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।

টেকসই প্রযুক্তির জন্য ভারতের আগ্রহ বিশেষ রকমের। সম্প্রতি ভারত গ্রিন হাইড্রোজেন নিয়ে বিশেষ উৎসাহ দেখিয়েছে। বাইডেন ও মোদি দুই নেতাই বৈদ্যুতিক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও টেকসই বিমান জ্বালানিসহ জৈব জ্বালানির উন্নয়নে জোর দিয়েছেন। পরিবেশের কথা মাথায় রেখে ভারতে বৈদ্যুতিক গাড়ির উৎপাদন বৃদ্ধি ও পুনর্নবায়নযোগ্য শক্তি স্থাপনে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাইডেন। ইতোমধ্যে একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের গুজরাটে চিপ অ্যাসেম্বলি ও টেস্ট প্ল্যান্টে ৮২৫ মিলিয়ন রুপি বিনিয়োগ করার কথা জানা গেছে।

আগামী বছর ভারতে সাধারণ নির্বাচন। নতুন মার্কিন বিনিয়োগ ও উদ্যোগ বিজেপির নির্বাচনী পালে হাওয়া দেবে। মোদির নিজের প্রদেশ গুজরাটে বেদান্ত-ফক্সকন ১.৫৪ লাখ কোটি রুপি বিনিয়োগে সেমিকন্ডাক্টর উত্পাদন ইউনিট স্থাপন করার অভিপ্রায় জানিয়েছে।

সম্প্রতি ভারতীয় বংশোদ্ভূত আলফাবেটের (গুগল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই গান্ধীনগরে গ্লোবাল ফিনটেক অপারেশন সেন্টার চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই প্রকল্পে ১০ বিলিয়ন রুপি বিনিয়োগ মোদির জন্য বেশ স্বস্তিদায়ক। ভারতীয় সৌর প্যানেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান “বিক্রম সোলার লিমিটেড” মার্কিন সৌর শক্তি সরবরাহ চেইনে দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। ভারতও মহাকাশ অনুসন্ধানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আর্টেমিস চুক্তিতে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে। 

একসময় যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞায় ছিলেন মোদি। এবার তাকেই উষ্ণ আলিঙ্গনে বেধে রাখলো ওয়াশিংটন। সামনে নির্বাচনকে মাথায় রেখে, বাইডেন প্রশাসন বেশ ভরসা রাখছে মোদির ওপর। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ নজর ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের দিকে। ভারতে অস্ত্র রপ্তানিতে আগ্রহী দেশটি। যা বর্তমানে বেশির ভাগই রাশিয়ার দখলে। তবে দুই নেতার মধ্যে পাকিস্তানের “আতঙ্কবাদ” নিয়ে আলোচনা হলেও রাশিয়াকে নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য হয়নি। ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক মার্কিন প্রশাসনকে বিচলিত করলেও তারা জানে যে, ভারত রাশিয়ার ব্যাপারে অনড় থাকবে। 

 এই লেখা লেখকের ব্যক্তিগত মন্তব্য। এর জন্য কোনোভাবে ঢাকা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না

অয়নাংশ মৈত্র : ভারতীয় সাংবাদিক ও কূটনীতি গবেষক

About

Popular Links