Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সবুজ সনদ পেল দুই পোশাক কারখানা

পরিবেশবান্ধব কারখানার দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে সবার আগে

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৪, ১০:২৩ পিএম

দেশের আরও দুই পোশাক কারখানা আন্তর্জাতিক এলইইডি সনদ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- গাজীপুরের টঙ্গীর উইন্ডি অ্যাপারেলস লিমিটেড এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের কমফিট বানানা লিফ। 

এ নিয়ে দেশে মোট পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যা দাঁড়ালো ২১৩টিতে। পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যার ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ।

শনিবার (১৬ মার্চ) বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কারখানা দুটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) থেকে সনদ পেয়েছে। সনদ পাওয়ার নয়টি শর্ত পরিপালনে মোট ১১০ নম্বরের মধ্যে কোনও কারখানা ৮০–এর বেশি পেলে ‘‘লিড প্লাটিনাম”, ৬০-৭৯ পেলে ‘‘লিড গোল্ড”, ৫০-৫৯ নম্বর পেলে ‘‘লিড সিলভার” এবং ৪০-৪৯ নম্বর পেলে ‘‘লিড সার্টিফায়েড” সনদ দেওয়া হয়। উইন্ডি অ্যাপারেলস ৬৯ এবং কমফিট বানানা লিফ ৭৩ নম্বর পেয়ে ‘‘লিড গোল্ড” সনদ পেয়েছে।

বিজিএমইএ তথ্য অনুযায়ী, তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে বর্তমানে লিড সনদ পাওয়া পরিবেশবান্ধব কারখানা বেড়ে হয়েছে ২১৩টি। তার মধ্যে ৮০টিই লিড প্লাটিনাম সনদধারী। এছাড়া, ১১৯টি গোল্ড, ১০টি সিলভার ও ৪টি কারখানা সার্টিফায়েড সনদ পেয়েছে।

বাংলাদেশে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি সর্বোচ্চ রেটেড লিড গ্রিন কারখানা রয়েছে। শুধু তাই নয়, সেরা ১০টি কারখানার মধ্যে ৯টি এবং শীর্ষ ২০টি সর্বোচ্চ রেটেড লিড গ্রিন কারখানার মধ্যে ১৮টি বাংলাদেশে অবস্থিত।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, উইন্ডি অ্যাপারেলস ১১০ নম্বরের মধ্যে টেকসই অবস্থান ক্যাটাগরিতে ১০-এ ১০; পানির দক্ষ ব্যবহারে ১১-তে ৮; জ্বালানি ও পরিবেশে ৫৩-তে ২৪; উপাদান ও সম্পদে ১৩-তে ৫; অভ্যন্তরীণ পরিবেশ মানে ১৬-তে ২; উদ্ভাবনে ৬-এ ৬; আঞ্চলিক অগ্রাধিকার ক্রেডিটে ৪-এ ৪; অবস্থান ও যোগাযোগে ২০-এ ৯ এবং ইন্টিগ্রেটিভ প্রসেস ক্রেডিটসে পেয়েছে ১-এ ১। সব মিলিয়ে ৬৯।

কমফিট বাংলাদেশ ১১০ নম্বরের মধ্যে কারখানার টেকসই অবস্থান ক্যাটাগরিতে ১০-এ ১০; পানির দক্ষ ব্যবস্থায় ১১-তে ১০; জ্বালানি ও পরিবেশে ৫৩-তে ১৫; উপকরণ ও সম্পদে ১৩-তে ৪; অভ্যন্তরীণ পরিবেশগত মানে ১৬-তে ৯; উদ্ভাবনে ৬-এ ৬; আঞ্চলিক অগ্রাধিকার ক্রেডিটে ৪-এ ৪; অবস্থান ও পরিবহনে ২০-এ ১৪ এবং ইন্টিগ্রেটিভ প্রসেস ক্রেডিটসে ১-এ ১। সব মিলিয়ে ৭৩।

২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৩০টি কারখানা সনদ পেয়েছে। বাংলাদেশের কারখানা ইউনিট ২০০১ সাল থেকে লিড সার্টিফিকেট পাচ্ছে।

ইউএসজিবিসি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের স্থপতিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কাউন্সিল। পৃথিবীজুড়ে এটি পরিবেশবান্ধব ভবন ও কারখানা নির্মাণে পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে থাকে। এমনকি পরিবেশবান্ধব কারখানা বা স্থাপনা তৈরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ডও রয়েছে তাদের।

সংস্থাটির দেওয়া সনদ এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বিশ্বের বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এ সংস্থার সনদকে গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে। এ জন্য ইউএসজিবিসির সনদকে এ দেশের শিল্প উদ্যোক্তারাও বেশ গুরুত্ব দেন।

ইউএসজিবিসির তালিকায় শীর্ষ দশে থাকা সব কারখানা এলইইডি  প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে। বিভিন্ন মানদণ্ডে ১১০ নম্বরের মধ্যে ৮০ বা তার বেশি নম্বর পায়, এমন কারখানাকে এ সনদ দেওয়া হয়। এলইইডি -এর পূর্ণাঙ্গ রূপ হচ্ছে লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন।

সনদটি পেতে একটি প্রকল্পকে ইউএসজিবিসির তত্ত্বাবধানে নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন মানদণ্ডে নির্ধারিত মান রক্ষা করতে হয়। নির্ধারিত মান বজায় রেখে নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা পুরোনো ভবন সংস্কার করেও এ সনদের জন্য আবেদন করতে পারে কারখানাগুলো।

এই কারখানাগুলো কর্মীদের জন্য একটি নিরাপদ কাজের পরিবেশ প্রদান করে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখন স্থায়িত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থ পানি হ্রাস এবং দক্ষতার ক্রমবর্ধমান সমস্যাগুলি মোকাবেলা করে বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

সবুজ পোশাক কারখানার ক্রমবর্ধমান সংখ্যা বাংলাদেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবুজ চুক্তি এবং বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবসা উভয়ের দ্বারা বর্ণিত যথাযথ পরিশ্রমের নির্দেশাবলীর সাথে মোকাবিলা করার জন্য একটি সুবিধাজনক জায়গা দেবে।

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর সবুজ কারখানা ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়া বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করেছে। ২০১৩ সালের ওই ঘটনায় ১,১৩৪ জনের মৃত্যু ও ২,০০০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন।

About

Popular Links