মোবাইল ফোন বর্তমান দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন পৌঁছে গেছে আসক্তির পর্যায়ে। সকালে ঘুম ভাঙার পর থেকে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত মোবাইল ফোন হাতছাড়া করেন না, এমন অনেকেই আছেন। অবস্থা এমন যে কেউ কেউ তো টয়লেটেও মোবাইল ফোনটা হাতে নিয়ে যান। আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ মনে হলেও এই অভ্যাস ডেকে আনতে পারে মারাত্মক সব সমস্যা।
মোবাইল ফোন নিয়ে ঢুকলে টয়লেটে থাকার সময় দীর্ঘায়িত হয়। যা থেকে দেখা দিতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে-
কতক্ষণ টয়লেটে থাকা উচিত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের স্টোন ব্রুক মেডিসিনের ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ সেন্টারের পরিচালক ডা. ফারাহ মঞ্জুর সিএনএনকে জানান, সাধারণভাবে তিন থেকে পাঁচ মিনিটেই মলত্যাগের কাজ হয়ে যায়। তবে কারও কারও পাঁচ থেকে আট মিনিটও সময় লাগতে পারে। তবে কোনোভাবেই টয়লেটে ১০ মিনিটের বেশি সময় কাটানো উচিত নয়।
বেশিক্ষণ টয়লেটে থাকলে যা হয়
প্রতিবেদনে বলা হয়, পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ শক্তি আমাদের মাটির দিকে টেনে ধরে রাখে। এ কারণে দেহের নিচের অংশ থেকে রক্ত টেনে ওপরে তুলতে হৃৎপিণ্ডকে বেশি কাজ করতে হয়। দেহের নিম্নাংশের অনেকখানি বসার মতো ভঙ্গিতে কমোডে ঢুকে থাকে, যা সোফা বা চেয়ারে বসার ভঙ্গি থেকে ভিন্ন। এমন অবস্থায় মলনালি নিম্নগামী থাকে। ফলে দেহের নিম্নাংশ থেকে রক্ত টেনে তোলা হৃৎপিণ্ডের জন্য আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায়। আর এর প্রভাব পড়ে রক্তচাপে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস সাউথওয়েস্টার্ন মেডিকেল সেন্টারের কোলোরেক্টাল সার্জন ডা. লাই ঝু সিএনএনকে বলেন, “এই অবস্থায় রক্ত নিচের দিকে বেশি সঞ্চালিত হয় আর ওপরে দিকে উঠতে বেগ পেতে হয়। ফলে মলদ্বার ও মলনালির আশপাশে থাকা রক্তের শিরা–উপশিরা ধমনি রক্তচাপে স্ফিত হয়ে থাকে। যা মলদ্বার থেকে রক্তপড়া, শ্রোণিদেশের পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া, পাইলস বা অর্শরোগের ঝুঁকিসহ নানা জটিলতা ডেকে আনে।”
টয়লেটে হাঁটুর ওপর ভর করে কুঁজো হয়ে বসে মোবাইল ফোন দেখার ফলে মেরুদণ্ড ও পার্শ্ববর্তী পেশিগুলোয় চাপ পড়ে। যা থেকে ধীরে ধীরে অস্বস্তি শুরু হয়, ব্যথা হয় পিঠে ও কাঁধে। প্রথমদিকে সমস্যাটি তেমনটা টের না পাওয়া গেলেও ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে।
এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু মোবাইলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তাই টয়লেটে বেশি সময় কাটানোর যাবে না। আর আপনার যদি স্বাভাবিকভাবেই টয়লেটে ১০ মিনিটের বেশি সময় লাগে, তার মানে আপনি কোষ্টকাঠিন্য বা অন্য রোগে আক্রান্ত।
রয়েছে ক্যান্সারের ঝুঁকি
প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘসময় কমোডে বসে থাকার ফলে যদি মলাশয়ের ভেতরে শিরা বা কোনো কিছু বেড়ে ফুলে যেতে পারে। যে কারণে মলপ্রবাহের গতি বাধাগ্রস্ত হয়। যা থেকে কোষ্ঠকাঠিন্যের পাশাপাশি পায়ুপথ দিয়ে রক্তপাতও হতে পারে। যা থেকে হতে পারে ক্যান্সারও।



