আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেছেন, “নিক্সন চৌধুরী (ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য) জমিদারি প্রথা ফিরিয়ে আনতে চান। আপনাদের ওপর রাজত্ব কায়েম করতে চান। আপনারা যাতে ভুয়া জমিদার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত না হোন সেজন্য নৌকায় ভোট দিতে হবে। নিক্সন নিজেকে সিংহ মনে করেন, তাকে আবার ভোট দিলে আপনাদের চাবাইয়া খাইয়া ফেলবে।”
বুধবার (২৫ অক্টোবর) ফরিদপুরের ভাঙ্গার মানিকদহ ইউনিয়নে এক উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য।
২০১৪ ও ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ছিলেন কাজী জাফরউল্যাহ। তাকে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নিক্সন। নিক্সন চৌধুরী বর্তমানে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য।
কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, “আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নাই। আমাকে ভোট দিলে আপনারাই লাভবান হবেন। আগামীতে আমি নির্বাচিত হলে বাবার রেখে যাওয়া শত শত কোটি টাকার সম্পদ দিয়ে ভাঙ্গায় একটি হাসপাতাল করে দেব। এলাকার শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেব।”
নিক্সনের বিষয়ে তিনি বলেন, “অবৈধভাবে মাটি কেটে, বালু কেটে সেই টাকা দিয়ে কিছু লোকজন পোষেণ। আবার জমিদারি প্রথা স্থাপন করতে চান। ব্রিটিশ আমলে জমিদারি প্রথা ছিল। ব্রিটিশরা তাদের মাধমে প্রজাদের ওপর জুলুম করে খাজনা আদায় করত। তারা টিকতে পারে নাই। জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ হয়ে গেছে। নিক্সন আবার জমিদারি প্রথা স্থাপন করতে চান, আপনাদের ওপর রাজত্ব করতে চান।”
জাফরউল্যাহ বলেন, “বর্তমান এমপি (নিক্সন) গরু-ছাগলের মতো আপনাদের মাথা কিনতে চায়। যারা টাকা দিয়ে মাথা কেনে, তারা কখনো ভালো কাজ করে না; আপন লোক হবে না। ভাঙ্গার লোক টাকায় বিক্রি হয় না, তবে কিছু বেইমান, নমরুদ টাকায় বিক্রি হয়। তারা টাকা ছাড়া কিছু বোঝে না, তারা টাকার রাজনীতি বোঝে।”
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে মন্তব্য করে দলের এই সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, “বিরোধীরা সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত। তারা বিদেশি শক্তির কাছে বাংলাদেশকে ছোট করছে। এটি কোনোভাবেই গণতন্ত্রের চর্চা হতে পারে না। আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে অপশক্তিকে মোকাবিলা করতে হবে।”
সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে বই দিচ্ছেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অবৈতনিক করে দিয়েছেন। রাস্তাঘাট করে দিচ্ছেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার প্রার্থীকে জয়ী করতে পারলে এই অঞ্চলের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।”



