দেশের বাম রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে বুদ্ধিবৃত্তি দিয়ে তরুণদের আকৃষ্ট করার তাগিদ দিয়েছেন শিশু সাহিত্যিক আখতার হুসেন। তিনি বলেছেন, “নতুন যারা আসবে, তার কী দেখে আসবে? তারা আলোকিত মানুষ চাইবে, তারা বুদ্ধিবৃত্তি চাইবে, বুদ্ধিবৃত্তি দিয়ে আমাদের তাদেরকে আকর্ষণ করতে হবে।”
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ছাত্র ইউনিয়নের ৪২তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
কমিউনিস্ট পার্টিকে দেশের প্রধান বিরোধী দলে পরিণত করতে দলের মধ্যে বিভক্তি দূর করারও তাগিদ দেন আখতার হুসেন। তিনি বলেন, “কোনো নির্দিষ্ট মডেল মানা যাবে না। পুরনো মডেল দিয়ে এখন বিপ্লব সম্ভব নয়। দেশের মাটি বলবে আমি লাঙল চালাব, না ট্রাক্টর। লাঙল উঠে গেছে, এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে ছোট ট্রাক্টর চালাব, না বড় ট্রাক্টর চালাব। দ্বিতীয়ত, এই মাটিতে আমি কী চাষ করব? মাটির ওপর নির্ভর করে আমাদের রাজনীতিতে যেতে হবে। এর বাইরে গেলে প্রতি মুহূর্তে আমরা ফেল করব।”
ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি দীপক শীল বলেন, “বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাণিজ্যিকিকরণ করা হয়েছে। ২০২১ সালে প্রণীত শিক্ষানীতির মাধ্যমে তারা শিক্ষাখাতকে ধ্বংস করার নীল নকশা করেছে।”
তিনি বলেন, “আজকে একটি গণতন্ত্রহীন ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে তুলে দিয়ে অগণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হয়েছে। আমরা গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস চাই। আমরা রক্তপাতহীন, অসহিংস, সন্ত্রাসমুক্ত ছাত্ররাজনীতি চাই।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের বর্তমান ও সাবেক নেতারাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে দলটি। এছাড়া শুক্র এবং শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রে হবে কাউন্সিল অধিবেশন। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে আগামী এক বছরের জন্য নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন এবং সংগঠনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে ছাত্র ইউনিয়ন।



