শহিদের রক্তের ওপর দিয়ে লেখা যে সংবিধান, সেই সংবিধানকে যখন কবর দেওয়ার কথা বলা হয়, তখন কিন্তু আমাদের কষ্ট লাগে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) সংবিধান নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর একটি মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস।
এর আগে বাংলামোটরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘‘জুলাই ঘোষণাপত্র’’ এর মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর মতো অপ্রাসঙ্গিক ঘোষণা করার কথা বলেছেন সংগঠনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। একইসঙ্গে হাসনাত ১৯৭২ সালের সংবিধানকে ‘‘মুজিববাদী’’ সংবিধান হিসেবে তুলে ধরে তার কবর রচনা করারও ঘোষণা দেন।
এর জবাবে রবিবার দুপুরে ঢাকার নয়াপল্টনে এক মতবিনিময় সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীদের উদ্দেশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘‘অনুরোধ করব, বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করবেন। ভুল বুঝবেন না। কবর দিয়ে ফেলব, মেরে ফেলব, কেটে ফেলব- এ সমস্ত কথা ভালো কথা নয়। এ ধরনের কথা ফ্যাসিবাদের মুখ থেকে আসে।”
অনুষ্ঠানে মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ‘‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখভাগে থেকে অংশগ্রহণ করেছি। ১৯৭১ সালে আমার বহু বন্ধু শহিদ হয়েছে। শহিদের রক্তের ওপর দিয়ে লেখা যে সংবিধান, সেই সংবিধানকে যখন কবর দেওয়ার কথা বলা হয়, তখন কিন্তু আমাদের কষ্ট লাগে। আমরা তোমাদের অগ্রজ হিসেবে কষ্ট পাই। কথাটা এভাবে বলা কি ঠিক হলো! ওই সংবিধানে যদি খারাপ কিছু থাকে, নিশ্চয়ই সেটা বাতিলযোগ্য।”
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘‘যারা ৫ আগস্টের আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ হিসেবে কাজ করেছে, এককভাবে তারা এই আন্দোলনকে নিজেদের করে নিতে চায়। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন প্রায় নিভু নিভু, তখন কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামনে এগিয়ে আসে। সাধারণ মানুষ সামনে এগিয়ে আসে। আমরা এগিয়ে যাই। বিএনপির ৪৬২ জন মারা গেছে। নিশ্চয়ই নেতৃত্বে একজন থাকবে। পেছনে হাজারো জন থাকবে। কিন্তু এককভাবে দাবি করা ঠিক না। এতে কিন্তু জনমনে বিভেদ সৃষ্টি হবে; বিদ্বেষ সৃষ্টি হবে।’’



