Sunday, June 14, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দৈনিক ২০ মিনিট ফুটবল খেললে বাড়বে আয়ু 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন ২০ থেকে ৬০ মিনিট শারীরিক ব্যায়াম করা প্রয়োজন

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম

শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬, আর কোটি কোটি দর্শক টেলিভিশন ও স্টেডিয়ামে চোখ রাখছেন প্রিয় দল ও তারকাদের দিকে। ফুটবল কেবল একটি জনপ্রিয় খেলা বা বিনোদনের মাধ্যমই নয়- এটি সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের অন্যতম একটি উপায়ও। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সপ্তাহে অন্তত ৩ থেকে ৫ দিন, প্রতিদিন ২০ থেকে ৬০ মিনিট শারীরিক ব্যায়াম করা প্রয়োজন। দৈনিক ২০ মিনিট ফুটবল খেললে শুধু আয়ু নয়, বাড়বে শরীরের গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। দ্রুত হাঁটাচলা করা, দৌড়ানো, সাঁতার, সাইক্লিং কিংবা দৈনিক ব্যায়ামের মতো ফুটবলও শরীরের জন্য সমান উপকারী। 

ফুটবল খেললে শরীরে যেসব পরির্বতন ঘটবে- 

গবেষণায় দেখা গেছে, অপেশাদার ৫ জনের ইনডোর ফুটবল ম্যাচে মাত্র ৩০ মিনিট খেললেই খেলোয়াড়দের হৃদস্পন্দন দীর্ঘ সময় সর্বোচ্চ ক্ষমতার প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছে যায়। ফলে হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস এবং রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। 

এছাড়া মাত্র ১৫ মিনিট খেলায় প্রায় ১১০ থেকে ২০০ কিলোক্যালরি পর্যন্ত শক্তি খরচ হতে পারে, যা জগিং বা স্কিইংয়ের সমতুল্য এবং অনেক ক্ষেত্রে টেনিসের চেয়েও বেশি কার্যকর। 

নিয়মিত ফুটবল খেলার কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা- 

১. হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাবে 
নিয়মিত ব্যায়াম রক্তনালিকে নমনীয় রাখে এবং ধমনীতে চর্বি জমার প্রবণতা কমায়। ফলে করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হার্ট অ্যাটাক এবং ইস্কেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

২. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে
ব্যায়ামের ফলে রক্তনালির স্থিতিস্থাপকতা বাড়ে এবং হৃদ্‌যন্ত্রকে কম চাপ দিয়ে রক্ত পাম্প করতে হয়, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

৩. হাড় ও পেশি শক্তিশালী করবে
ফুটবল খেলতে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন পেশি ও হাড় সক্রিয় থাকে। এতে হাড়ের ঘনত্ব বজায় থাকে এবং অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমে। একই সঙ্গে হাঁটু, গোড়ালি ও কোমরের আঘাত প্রতিরোধেও সহায়তা করে।

৪. স্থূলতা প্রতিরোধে কার্যকর 
নিয়মিত দৌড়ঝাঁপ ও নড়াচড়ার কারণে অতিরিক্ত চর্বি কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, বিশেষ করে কোমরের চারপাশে জমা চর্বি হ্রাস পায়।

৫. মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাবে 
ব্যায়ামের সময় শরীরে এমন কিছু হরমোন নিঃসৃত হয় যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে উদ্বেগ, অবসাদ ও মানসিক চাপ কমতে পারে।

৬. কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে 
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিদের মধ্যে কোলন ও স্তন ক্যানসারের হার তুলনামূলকভাবে কম।

শুধু রোগ প্রতিরোধ নয়, নিয়মিত ফুটবল খেলা বা ব্যায়াম অনেক রোগ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ভূমিকা রাখে।

ডায়াবেটিস
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

হাঁপানি 
অনেক রোগীর ক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যায়ামে শ্বাস-প্রশ্বাসের সক্ষমতা উন্নত হয়।

উচ্চ কোলেস্টেরল 
ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমিয়ে উপকারী এইচডিএল কোলেস্টেরল বাড়াতে সহায়তা করে।

সিওপিডি 
হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের কার্যকারিতা উন্নত করে ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ 
নিয়মিত ব্যায়ামে রক্তচাপ ও বিশ্রামকালীন হৃদস্পন্দন উভয়ই কমতে পারে।

শুধু খেলা নয়, প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর জীবন-

বিশ্বকাপের উত্তেজনা হয়তো সবাইকে মাঠে নামতে অনুপ্রাণিত করবে। তবে সুস্থ থাকতে ফুটবলের পাশাপাশি আরও কিছু অভ্যাস জরুরি। যেমন- সুষম খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান ও অন্যান্য ক্ষতিকর অভ্যাস এড়িয়ে চলা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ। 

ফুটবল তাই শুধু গোল আর জয়ের গল্প নয়; এটি হতে পারে সুস্থ শরীর, প্রফুল্ল মন এবং দীর্ঘ জীবনের অন্যতম সঙ্গী। 

   

About

Popular Links

x