কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বে ইতোমধ্যে একবার মুখোমুখি হয়েছে ক্রোয়েশিয়া এবং মরক্কো। সেমিফাইনালে নিজ নিজ ম্যাচে পরাজিত হওয়ায় নিয়মরক্ষার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আবারও একে অপরের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে তারা। শিরোপা জয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হলেও দুই দলের সামনেই ছিল জয় দিয়ে কাতার বিশ্বকাপের শেষটা রাঙানোর সুযোগ।
সেই লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে ক্রোয়েশিয়া। শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) কাতারের খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মরক্কোকে ২-১ পরাজিত করে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর আবারও তৃতীয় স্থান অধিকার করে ক্রোয়েটরা। অন্যদিকে, গতবারের রানার্সআপদের কাছে হেরে চতুর্থ হলেও আফ্রিকান দেশে পক্ষে সর্বোচ্চ সাফল্য নিয়েই বিশ্বকাপ থেকে মাথা উঁচু করে বিদায় নিল মরক্কো।
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এগিয়ে যেতে সময় নেয়নি গতবারের রানার্সআপরা। ম্যাচের বয়স যখন ৭ মিনিট তখন অধিনায়ক লুকা মডরিচের ফ্রি-কিক থেকে ছয় গজ বক্সের সামনে বল বাড়ান ইভান পেরিসিচ। সেই বলে মাথা ছুঁইয়ে ক্রোয়েটদের এগিয়ে দেন কাতার বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় জসকো গাভার্দিওল।
পিছিয়ে পড়ে পাল্টা জবাব দিতে মরক্কোও সময় নেয়নি। ক্রোয়েশিয়ার কাছ থেকে যেভাবে মরক্কো যেভাবে গোল হজম করেছে, বলতে গেলে প্রায় অনুরূপভাবেই সমতায় ফেরে আফ্রিকান দেশটি। ডান প্রান্ত থেকে ক্রোয়েট ডি-বক্সে ফি-কিক নিয়েছিলেন মরক্কোর হাকিম জিয়েখ। সেই ফ্রি-কিক বিপদমুক্ত করতে গিয়ে উল্টো নিজেদের গোলমুখে বল বাড়িয়ে দেন ক্রোয়েশিয়ান ডিফেন্ডার লভ্রো মাইয়ের। সেখানে দৌড়ে এসে দারুন এক হেডে ক্রোয়েশিয়ার জালে বল জড়িয়ে দেন আশরাফ দারি। জাতীয় দলের হয়ে মরক্কান এই ডিফেন্ডারের এটাই প্রথম গোল।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বাড়তি কিছু পাওয়ার আশা না থাকলেও দুই দলের মধ্যেই ছিল জয়ের ক্ষুধা। তাই প্রথমার্ধের পুরোটা জুড়েই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসেছিল ক্রোয়েশিয়া এবং মরক্কো। এমনই এক আক্রমনে ২৮ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল মরক্কানদের সামনে। কিন্তু হাকিম জিয়েখের সঙ্গে সমন্বয়ে আশরাফ হাকিমি ক্রোয়েট ডি-বক্সে বল বাড়ালেও ইউসেফ এন-নেসিরি জায়গামতো ছিলেন না।
প্রথমার্ধ যখন ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার দিকে এগোচ্ছে, তখনই আবারও ক্রোয়েশিয়া আচমকা এগিয়ে যায়। ৪২ মিনিটে নিজেদের ডি-বক্সে মরক্কান ডিফেন্ডাররা বল বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে মার্কো লিভায়ার কাছ থেকে বল পেয়ে যান মিস্লাভ অরসিচ। ডি-বক্সের বাঁ দিকে বল পাওয়ার পর অরসিচের নেওয়া আড়াআড়ি শট মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোকে ফাঁকি দিয়ে দূরের পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়। ফলে ২-১ গোলের লিড নিয়ে মধ্যবিরতিতে যায় গতবারের রানার্সআপরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে ভেতরের দিকে এসে জায়গা নিয়ে এসে নিজের দ্বিতীয় গোলের জন্য শট নেন অরসিচ। তবে এবার ক্রোট ফরোয়ার্ডের নেওয়া শট মরক্কোর ডিফেন্ডার এল ইয়ামিকের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে সীমানা অতিক্রম করে।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণের চেষ্টা করলেও গোলের পরিষ্কার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারছিল না। ৭৪ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার গাভার্ডিওলকে নিজেদের ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করে ফেলে দেন মরক্কোর আমারাবাত। ক্রোয়েট ডিফেন্ডারের সামনে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো ছাড়া আর কেউ না থাকায় পেনাল্টির আবেদন করে ক্রোয়েশিয়ানরা। তবে রেফারি তাতে কর্ণপাত করেননি।
পরের মিনিটেই পাল্টা আক্রমণে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করে মরক্কো। জসকো গাভার্দিওল নিজেদের রক্ষণভাগে বল বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে তা এসে পর মরক্কোর ইউসেফ এন-নেসিরির পায়ে। খুব কাছ থেকে মরক্কান ফরওয়ার্ডের বাঁ পায়ে নেওয়া শট দারুণভাবে রুখে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ।
৮৭ মিনিটে আবারও ব্যবধানের সুযোগ পায় ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু ক্রোট রাইটব্যাক স্টানিসিচের প্রচেষ্টা গোলবার ঘেঁষে চলে যায়। নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা অতিরিক্ত ছয় মিনিটের শেষ মুহূর্তে প্রায় সমতা ফিরেই এসেছিল মরক্কো। কিন্তু আত্তিয়াত-আল্লাহর দুর্দান্ত ক্রসে বলে মাথা ছুঁয়েছিলেন ইউসেফ এন-নেসিরি। তবে তার হেড আশ্রয় নেয় গোলবারের জালের ওপরের অংশে। সেই সঙ্গে চতুর্থ হিসেবেই শেষ হয় অ্যাটলাস লায়নদের দুর্দান্ত বিশ্বকাপযাত্রা।



