সাম্প্রতিক সময় বেলজিয়াম দলে বেশ কয়েকবারই অন্তর্কোন্দলের ঘটনা ঘটেছে। বলা হয়, কাতার বিশ্বকাপে বেলজিয়ানদের ভরাডুবির কারণও খেলোয়াড়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব। নতুন করে আবারও বেলজিয়াম দলে অন্তর্দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে এসেছে। এবার এ অন্তর্কোন্দলের কেন্দ্রে কোচ ডমেনিকো তেদেস্কো, গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া এবং স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু।
চলমান আন্তর্জাতিক বিরতিতে ইউরো ২০২৪ বাছাইপর্বে অস্ট্রিয়া এবং এস্তোনিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ রয়েছে বেলজিয়াম। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিতে গোলবার সামলালেও এস্তোনিয়ার বিপক্ষে দেখা যাবে না থিবো কর্তোয়াকে। ওই ম্যাচের পরই দল ছেড়েছেন গোলরক্ষক। এ নিয়ে কর্তোয়ার সমালোচনা করেন কোচ তেদেস্কো।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পাওয়া চোটের কারণে বেলজিয়ামের নিয়মিত অধিনায়ক কেভিন ডি ব্রুইনা মাঠের বাইরে। এ মিডফিল্ডারের অনুপস্থিতিতে অস্ট্রিয়া ও এস্তোনিয়ার বিপক্ষে ইউরো বাছাইয়ের ম্যাচ দুটিতে অধিনায়ক হিসেবে রোমেলু লুকাকু এবং থিবো কোর্তোয়াকে বেছে নিয়েছিলেন বেলজিয়াম কোচ দমিনিকো তেদেস্কো।
শনিবার (১৭ জুন) অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে বেলজিয়ামের অধিনায়কত্বের বাহুবন্ধনী ছিল লুকাকুর হাতে। ওই ম্যাচের পরই জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান কর্তোয়া। বেলজিয়ান গোলরক্ষকের ক্যাম্প ছাড়ার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সোমবার সংবাদ সম্মেলনে তেদেস্কো জানান, লুকাকুকে অধিনায়কত্ব দেওয়ায় অভিমান নিয়ে দল ছেড়েছেন কর্তোয়া। বেলজিয়ামের কোচ বলেন, “আমরা একসঙ্গে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে রোমেলু আর এস্তোনিয়ার বিপক্ষে থিবোকে অধিনায়ক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সবাই এটা মেনে নিলেও অস্ট্রিয়া ম্যাচের পর সে (কর্তোয়া) আমাকে ঘরে যাওয়ার কথা জানায় কারণ সে হতাশ এবং অপমানিত বোধ করেছে।”
তেদেস্কো আরও বলেন, “শুরু থেকেই আমি কর্তোয়াকে তার প্রাপ্য প্রশংসা করে এসেছি। সে আমার চোখে বিশ্বের সেরা গোলরক্ষক। গোলরক্ষক হিসেবে পছন্দ করলেও তার আচরণে আমি অবাক হয়েছি।”
তেদেস্কোর এমন অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন কর্তোয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক লম্বা পোস্টে বেলজিয়াম কোচের অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন ৩১ বছর বয়সী গোলরক্ষক।
থিবো কর্তোয়া বলেন, “সংবাদ সম্মেলনে কোচের কথা শুনে বিস্মিত হয়েছি। সবাইকে একটা ব্যাপার পরিষ্কার করতে চাই যে, ড্রেসিংরুম সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে এই প্রথম কিংবা শেষবার কোচের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়নি। কিন্তু এবারই প্রথম কেউ বিষয়টাকে প্রকাশ্যে আনলেন। এ ঘটনায় আমি ভীষণ হতাশ। এটা পরিষ্কার করতে চাই যে (আমাকে নিয়ে) কোচের মূল্যায়নের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।”
অধিনায়কত্ব ইস্যু নয় বরং চোটের কারণেই ক্যাম্প ছেড়েছেন বলে দাবি করে তিনি বলেন, “সেই কথোপকথনে আমি তাকে (তেদেস্কো) এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে বলেছিলাম, যা অতীতে আমাদের ক্ষতি করেছিল। এটা সরাসরি সুবিধা নেওয়ার মতো ব্যাপার না। জাতীয় দলের অধিনায়ক হওয়া কিংবা না হওয়া কোনো খামখেয়ালি বা এলোমেলো সিদ্ধান্ত নয়। এ সিদ্ধান্ত তারই নেওয়া উচিত। আমি তাকে এটাই বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আমার ডান হাঁটুর সমস্যা দেখাতে গতকাল (পরশু) বিকেলে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলাম। আমার ক্লাব ও জাতীয় দলের চিকিৎসক দলের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে। তাদের পর্যালোচনার পরেই ট্রেনিং ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিই।”
সতীর্থ লুকাকুর অধিনায়কত্ব পাওয়া নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই জানিয়ে বেলজিয়ান গোলরক্ষক আরও বলেন, “যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমি তার (কোচের) কাছে গিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত সেটা পূরণ হয়নি। তবে জোর দিয়ে বলছি, আমি এমন কোনো দাবি করিনি, যা আমার সতীর্থ রোমেলু লুকাকুর সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ব্যাপারে অন্য সতীর্থদের সঙ্গেও আলোচনা হয়নি।”
তবে কর্তোয়ার ক্যাম্প ছাড়ার পেছনে চোট কারণ না দাবি করে বেলজিয়াম কোচ ডমেনিকো তেদেস্কো বলেন, “আমি যদি বলতে পারতাম এটা চোট, তাহলে ভালোই হতো। কিন্তু আমি মিথ্যা বলতে পারি না। আমি সবসময় খেলোয়াড়দের আগলে রাখার চেষ্টা করি কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অসম্ভব। আমি তাকে আরও দুই দিন অপেক্ষা করতে বলেছিলাম।”



