ফুটবলের অন্যতম সমার্থক শব্দ ব্রাজিল। কালে কালে বহু প্রতিভার জন্ম, নানা মুহূর্তের জন্ম দিয়েছে এই দল।
পাঁচবারের বিশ্বকাপ বিজয়ীদের দলে বারবার বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা উঠে এসেছে। ব্রাজিলের সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রতিভায় আলোকিত হয়েছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।
আর এই আলোকিত ছটার সবশেষ সংযোজন ১৭ বছর বয়সী তারকা এন্ড্রিক। শনিবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার বিস্ময় জাগানো গোলে জিতেছে ব্রাজিল।
সেলেকাওদের এমন পাঁচ সেরা বিস্ময় বালকদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এএফপি স্পোর্ট।
এন্ড্রিক
১৭ বছর আট মাস দুই দিন বয়সে ব্রাজিলের হয়ে খেলতে নেমে সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ গোলদাতা হয়েছেন এন্ড্রিক। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে গোলটি করেন পালমেরাস থেকে রিয়ালে যোগ দেওয়া এই ফরোয়ার্ড।
২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্রাজিলের হয়ে অভিষেক হওয়া এই প্রতিভাবান তরুণ নিজের তৃতীয় ম্যাচে এসে প্রথম গোল পেলেন। ৮০ মিনিটে তরুণ তুর্কি এন্ড্রিক গোলটি পান।
১৬ বছর বয়সে পালমেইরাসের হয়ে অভিষেক হওয়ার পর থেকে তিনি দেশের নতুন সোনার ছেলে হিসেবে সমাদৃত হচ্ছেন।
ব্রাজিল কোচ ডোরিভাল জুনিয়র বলেছেন, সে এখন পর্যন্ত যে মনোভাব দেখিয়েছে, তা বজায় রাখলে সে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল এবং বিশ্ব ফুটবলে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হবে।
পেলে
ব্রাজিলের জার্সি গায়ে ৭৭ গোল করেছেন পেলে।
ব্রাজিলের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড আছে তার। ৮২ বছর বয়সী পেলে ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপ জয় করেন।
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন স্বদেশি ক্লাব সান্তোসে। তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট জানাচ্ছে, ব্রাজিলের জার্সিতে ১১৩ ম্যাচে ৭৭ গোল করেছেন পেলে।
আর সান্তোসের হয়ে ১,১১৬ বার মাঠে নেমে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছেন ১,০৯১ বার। আর সব মিলিয়ে তার গোল ১,২৮২।
রোনালদো
১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের হয়ে রোনালদোর অভিষেক হয় রোনালদোর। ১৭ বছর সাত মাস ১২ দিন বয়সে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে গোল করে গোল করে তিনি দেশের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হন।
১৯৯৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে একটি হৃদয়বিদারক হারের পর যখন তিনি কিক-অফের আগে রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
স্ট্রাইকার চার বছর পরে দক্ষিণ কোরিয়া/জাপানে জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে গোল করলে ব্রাজিল রেকর্ড পঞ্চম বিশ্ব শিরোপা জিতেছিল।
বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি, রোনালদো ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৯৯টি ম্যাচে ৬২টি গোল করেছেন।
নেইমার
সেলেকাওদের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ গোলদাতা। ১২৮টি খেলায় ৭৯ গোলসহ করেছেন তিনি। সম্ভবত জাতীয় দলের সঙ্গে ক্যারিয়ারের শেষ দিকে রয়েছেন তিনি। এখন পর্যন্ত ষষ্ঠ বিশ্বকাপ আনতে না পারলেও শুরু থেকেই পাদপ্রদীপে ছিলেন। ১৮ বছর বয়সে তার আন্তর্জাতিক গোল ছিল চোখ ধাঁধানো।
২০১৪ সালে আয়োজক হিসাবে দেশের ভার কাঁধে নিয়ে নেওয়া নেইমার ছিলেন অপ্রতিরোধ্য এবং পাঁচ ম্যাচে চারটি গোল করেছিলেন।
তবে কোয়ার্টার ফাইনালে বিপর্যয় ঘটে। যখন তিনি কলম্বিয়ার বিপক্ষে আহত হন ও পরে স্বাগতিকরা সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে পরাজিত হয়।
আলেকজান্ডার প্যাটো
পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম দেশে ফুটবল প্রত্যাশার ওজন তরুণ কাঁধের পক্ষে বহন করা খুব কঠিন। এর একটি উদাহরণ প্রতিশ্রুতিশীল আলেকজান্দ্র প্যাটো।
২০০৮ সালে সুইডেনের বিপক্ষে বেঞ্চ থেকে নামার পর ১৮ বছর বয়সী অভিষিক্ত প্যাটো যে গোল করেন, দলকে বিজয়ী করেন তাকে সবাই কিশোর পেলের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করে।
তবে ক্যারিয়ারে মাত্র ২৭ ম্যাচ খেলেন ও ২০১৩ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে ফুটবল ছেড়ে যান।



