ফ্রান্স দলকে নিয়ে “অত্যন্ত অপমানজনক” ভাষায় গান গাওয়ার পর ক্ষমা চেয়েছেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা দলটির টিম বাসের উদযাপনের এক লাইভ ভিডিওতে ফ্রান্সকে ঘিরে করা ওই বর্ণবাদী গানটি শোনা যায়। সে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল ফার্নান্দেজের অ্যাকাউন্ট থেকে।
এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ফিফার এক মুখপাত্র বলেছেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সম্বন্ধে অবগত আছে ফিফা এবং এ ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। খেলোয়াড়, সমর্থক কিংবা অফিশিয়ালদের যেকোনো প্রকার বৈষম্যমূলক আচরণের কঠোর নিন্দা জানাচ্ছে ফিফা।”
২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের ফ্রান্স দলকে নিয়ে ওই গানটি বানিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। তখন ফ্রান্সের তারকা স্ট্রাইকার ও এখনকার অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেও ছিলেন সে গানের লক্ষ্যে।
ফিফার পাশাপাশি ফার্নান্দেজের ক্লাব চেলসিও বিতর্কিত গান গাওয়া নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি জানিয়েছে, চেলসি ফুটবল ক্লাব সব ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য মনে করে।
তারা আরও বলেছে, “বৈচিত্র্যময় ক্লাব হতে পেরে আমরা গর্বিত। এখানে সব সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মানুষকে স্বাগত জানানো হয়। আমরা আমাদের খেলোয়াড়ের সর্বজনীন ক্ষমার ব্যাপারে অবগত এবং এটিকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছি। ক্লাবের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলামূলক পদ্ধতি মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যদিও সমালোচনা শুরুর পর ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষমা চেয়ে এনজো ফার্নান্দেজ বলেছেন, “এ গানে অত্যন্ত অপমানজনক ভাষা আছে এবং এসব শব্দ ব্যবহারের কোনো অজুহাতই নেই। সব ধরনের বৈষম্যের বিপক্ষে আমি। কোপা আমেরিকা উদযাপনের উন্মাদনায় পড়ে গিয়েছিলাম বলে ক্ষমা চাই।”
আর্জেন্টিনার অলিম্পিক ফুটবল দলের কোচ হাভিয়ের মাচেরানো এ নিয়ে বলেছেন, “ভিডিওটি অপ্রাসঙ্গিকভাবে টেনে আনা হয়েছে।” তার ভাষায়, “আমরা আর্জেন্টাইনরা আর যা–ই হোক অন্তত বর্ণবাদী নই। আমি এনজোকে চিনি। দারুণ মানুষ। তার এমন কোনো সমস্যা নেই।”



